
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:‘জনতার দরবার’-এ সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকাল ৯টা থেকে সল্টলেকের বিজেপি দফতরে শুরু হয় এই কর্মসূচি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা পেশার মানুষ তাঁদের সমস্যার কথা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। সেখানে ২৬ হাজার ‘যোগ্য’ চাকরিহারা কর্মীদের প্রতিনিধিরা যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানান। পাশাপাশি জমি দিয়ে ফ্ল্যাট না পাওয়ার অভিযোগও শোনা যায় ভবানীপুরের এক অশীতিপর বৃদ্ধ প্রবীর মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে।
৮১ বছর বয়সি ওই বৃদ্ধের অভিযোগ, জয় কামদার, সোনা পাপ্পুরা তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। পৈতৃক সম্পত্তি জয়কে দিয়েছিলেন প্রবীর। কিন্তু সেই জমিতে প্রোমোটিং করা হলেও তাঁকে ফ্ল্যাট দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। প্রবীরের আরও অভিযোগ, গ্রেফতার হওয়ার আগে জয় তাঁকে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বললেও বিনিময়ে ১৭ লক্ষ টাকা দাবি করেন। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে একটি ভাড়াবাড়িতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই বৃদ্ধ। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে খুশি তিনি। প্রবীর বলেন, “আশ্বস্ত হলাম। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন সমস্যার সমাধান করবেন।”
সেই অনুযায়ী জয়দেব কামদারের ছত্রছায়ায় থাকা সোনা পাপ্পুদের হাতে পৈতৃক জমি তুলে দিয়েছিলেন। আশা ছিল, সেখানে একটি উঠবে বহুতল। আর তা থেকে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবেন। তবে সে ফ্ল্যাট মেলেনি আজও। বরং ফ্ল্যাটের দাবি করলে মিলেছে হুমকি। শুধু তাই নয়, জমি দেওয়ার পরেও ফ্ল্যাটের জন্য ১৭ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলেও চাপ দেওয়া হয় তাঁকে। বর্তমানে জেলবন্দি জয়দেব কামদার এবং সোনা পাপ্পুরা। স্বাভাবিকভাবে ফ্ল্যাট পাওয়ার এখনই আর সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে অথৈ সাগরে অশীতিপর বৃদ্ধ প্রবীর মুখোপাধ্যায়। বাধ্য হয়ে সোমবার ‘জনতার দরবারে’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন।
পরনে সবুজ পাঞ্জাবি। হাতে লাঠি। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে অশক্ত শরীরে সোমবার সকালে সোজা চলে যান সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে। মুখ্য়মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পেয়েছেন বলেই জানান। মাথার ছাদ খুইয়ে আপাতত স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়াবাড়িতেই রয়েছেন বৃদ্ধ প্রবীরবাবু। হয়তো সমস্যা মিটবে। মাথার গোঁজার ঠাঁই ফিরে পাবেন বলেই আশা তাঁর।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন চাকরিহারারাও। সুমন বিশ্বাস বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরিহারাদের অভাব, অভিযোগের কথা শুনতেন না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা যেত না। শুভেন্দু অধিকারী বরাবর চাকরিহারাদের সঙ্গে ছিলেন। এখনও আমি চিঠি জমা দিয়েছে। উনি গ্রহণ করেছেন। এটা প্রমাণিত হল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চাইলে দেখা করা যায়। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা চাই আবার স্বচ্ছতা বজায় রেখে নিয়োগ হোক।” এর আগে গত সোমবারেও ‘জনতার দরবারে’ অভাব অভিযোগ শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, প্রতি সোমবারই সরাসরি জনতার কথা শুনবেন শুভেন্দু। তবে তার আগে রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে।
