
কলকাতা, ১০ জুলাই : দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে মৌসুমী বায়ু পুরোপুরি সক্রিয় হতেই রাজধানী কলকাতা-সহ এ রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টি। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পূর্বাভাসের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসের জেরে আজ রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী এবং নিচু এলাকাগুলির জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।
বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কলকাতা এবং শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, যা শুক্রবার ভোরেও অব্যাহত ছিল। রাতভর বৃষ্টির জেরে কলকাতার নিচু এলাকাগুলিতে জল জমতে সময় লাগেনি। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, আমহার্স্ট স্ট্রিট, ঠনঠনিয়া, উল্টোডাঙা আন্ডারপাস থেকে শুরু করে দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ ও ঢাকুরিয়ার বেশ কিছু এলাকায় রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জল জমার কারণে যানবাহনের গতি অত্যন্ত শ্লথ হয়ে পড়ে, যার জেরে তীব্র যানজট তৈরি হয় শহরের মূল সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে।
ইএম বাইপাস, মা ফ্লাইওভার, এজেসি বোস রোড এবং চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউতে যানবাহনের চাকা কার্যত থমকে যায়। অন্যদিকে, ভোর থেকেই সাঁতরাগাছি এবং দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে মাইলের পর মাইল লম্বা যানজট তৈরি হয়। টোল প্লাজা পেরোতেই দাঁড়িয়ে পড়ে বাস, ট্রাক ও ম্যাটাডরের দীর্ঘ সারি। পুলিশ সূত্রের খবর, হাওড়া থেকে কলকাতামুখী লেনে একটি ট্রাক খারাপ হয়ে যাওয়ার কারণে এই বিপত্তি ঘটে। এদিকে কলকাতা পুরনিগম এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে এবং জল নামানোর জন্য পাম্পিং স্টেশনগুলিকে সক্রিয় রাখা হয়েছে।
টানা বৃষ্টির জেরে পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, দাঁতন, নারায়ণগড়, ঘাটাল, বিষ্ণুপুর এবং বীরভূমের বিস্তীর্ণ এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের কাসাই নদী এবং ঝাড়গ্রাম ও পূর্ব মেদিনীপুরের ওপর দিয়ে বয়ে চলা সুবর্ণরেখা নদীর জলস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিচু এলাকাগুলিতে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চল দীঘা এবং ডায়মন্ড হারবারে সমুদ্রে উচ্চ জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনার কারণে মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গেও বর্ষা পুরোদমে সক্রিয়। দাজিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে 'রেড অ্যালার্ট' জারি করা হয়েছে। শিলিগুড়ি-সহ পাহাড়ি এলাকায় অবিরাম বৃষ্টির জেরে ধস নামার এবং সমতলের নিচু এলাকায় জলপ্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
