
কলকাতা, ১০ জুলাই : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ছাত্রীকে খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া হিংসা, গণপিটুনি এবং পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আরও পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতভর বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে এই পাঁচজনকে ধরা হয়েছে। এর ফলে এই জোড়া মামলায় ধৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে লাগাতার তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বারুইপুরে এক ১২ বছর বয়সী নাবালিকার দেহ পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়ার পর গোটা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই উত্তেজনার আবহেই স্রেফ সন্দেহের বশে এক যুবককে ঘর থেকে টেনে বের করে পিটিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, গণপিটুনিতে নিহত ওই যুবক সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ করা হবে।
এই ঘটনার পর সূর্যপুর এলাকায় দফায় দফায় পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পৌঁছালে তাদের ওপরও চরাও হয় উন্মত্ত জনতা। পুলিশকে মারধর এবং গাড়ি ভাঙচুরের এই ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গণপিটুনি এবং পুলিশে হামলার দুটি পৃথক মামলা রুজু করে।
তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে ১৮ জনকে এবং পরে আরও ১২ জনকে গ্রেফতার করেছিল। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ধৃতের সংখ্যা ছিল ৩০। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে আরও ৫ জন ধরা পড়ায় ধৃতের সংখ্যা ৩৫-এ পৌঁছাল। ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নিহত যুবকের পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় তিনি ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। তাঁকে জোরপূর্বক টেনে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে খুন করেছে। দোষীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, নাবালিকা খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত-সহ চারজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের মধ্যে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণে গেলে সে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে এনকাউন্টারে তার মৃত্যু হয়। এই পুলিশি এনকাউন্টারের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে ওই নাবালিকা নিখোঁজ ছিল এবং রবিবার সকালে তার দেহ উদ্ধার হয়। তাকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই মামলার তদন্ত জারি রয়েছে।
