
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে কলকাতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কার্যকর করা নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে জটিলতা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুত কাটিয়ে নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। সোমবার নিউটাউনে ১২৫ ফুট উচ্চতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তির ভূমিপুজো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শাহ বলেন, সিএএ-র আওতায় যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ হবে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।সেখানেই তিনি বার্তা দেন, “এই ভূমিপুজোকে আলাদাভাবে দেখছি। সোনার বাংলা গঠনের সংকল্পপূরণের সূচনার দিন শুরু হল।”
নরেন্দ্র মোদি সরকার নাগরিকত্ব আইন চালু করেছে। বাংলা-সহ ভারতে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে আগেই বার্তা দিয়েছে বিজেপি সরকার। বাংলাদেশ থেকে এই বাংলাতেও অনেক শরণার্থী এসেছেন অতীতে। তাঁদেরও নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, সেই কথা জানানো হয়েছিল। অনেকেই সিএএ-তে আবেদন করে ভারতের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন। কিন্তু নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ সামনে আসছিল। এবার বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে। ডবল ইঞ্জিন সরকার বাংলার উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। কলকাতায় এসে ফের নাগরিকত্ব নিয়ে বড় বার্তা দিলেন শাহ।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বার্তা দিতেন। কংগ্রেস সেই বিষয়কে গুরুত্ব দিতে নারাজ ছিল! স্বাধীনতার সময় জওহরলাল নেহরু ও লিয়াকতের চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু সেসময় হিন্দু শরণার্থীরা, বিশেষ করে বাংলার হিন্দুরা আরও কোণঠাসা হয়েছিলেন বলে মত রাজনীতিকদের একাংশের। ভিটেমাটি-সহ সব কিছুই হারিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন। এদিন অমিত শাহ বলেন, “সেই চুক্তি যখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পড়েছিলেন, তিনি বলেন কংগ্রেস পূর্ব পাকিস্তান ও পাকিস্তানের হিন্দুদের কথা চিন্তা করেননি। ভারতের মুসলমানের চিন্তা করেছেন কিন্তু হিন্দুদের কথা বলেনি।” নিউটাউনের মঞ্চ থেকে শাহ জোর গলায় এদিন বলেন, “এখন শ্যামাপ্রসাদের দলের সরকার সিএএ এনে হিন্দুদের নাগরিক করছেন। আমরা বাকিদেও নাগরিকত্ব দেব।”
বাংলায় হিন্দুত্ববাদের বার্তা আগেই দেওয়া হয়েছে। এবার নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা কাটিয়ে সেই বার্তাকে আরও জোরালো করা হল। এমনই মত রাজনৈতিক মহলের। এদিন শাহ বলেন, “শ্যামাপ্রসাদের আত্মা আশীর্বাদ করছেন। উনি বলেছিলেন, এক দেশে আলাদা-আলাদা নিশান চলবে না।” কাশ্মীরের জেলে মৃত্যু হয়েছিল শ্যামাপ্রসাদের। সেই মৃত্যুর তদন্ত কংগ্রেস করেনি, আরও একবার সেই অভিযোগ এদিন করলেন শাহ। নিউটাউনের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এখন নরেন্দ্র মোদি ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত করেছেন। শ্যামাপ্রসাদের সংকল্প পূরণ করছেন।”
রাজ্যে পালাবদলের পর কেটেছে মাত্র কয়েকদিন। আর এই কয়েকদিনের মধ্যেই একাধিক কাজ করেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। অমিত শাহ জানান, ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, লাখপতি দিদি-সহ বিভিন্ন প্রকল্প রাজ্যে চালু হয়েছে। উত্তরবঙ্গে ক্যানসার হাসপাতালের নির্মাণ শুরু হয়েছে। এমনকী সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফকে জমি দেওয়ার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। দুর্নীতির তদন্তের জন্য কমিটি গড়েছে শুভেন্দুর সরকার। এবিষয়ে অমিত শাহ বলেন, “যাঁরা দুর্নীতি করেছিলেন তাঁরা তৈরি থাকুন। কমিটির রিপোর্ট এলেই গুনে গুনে হিসাব হবে।” দুর্নীতির তদন্তের জন্য় আগে অনুমতি পাওয়া যেত না। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর সব দুর্নীতির তদন্তের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুপুর ১২টায় এই নিয়ে ফোন করেছিলেন তিনি। আর আড়াইটের মধ্যেই তদন্ত শুরুর অনুমতি দেয় রাজ্য সরকার।
বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার লক্ষ্যেও কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া মহিলাদের উপর অত্যাচার রুখতেও কমিটি গড়ার কাজ করেছে সরকার। বিধানসভায় পাশ হয়েছে গুন্ডাদমন বিল। নির্বাচনের আগে অমিত শাহ নিজে বাংলায় এসে গুন্ডাদের উলটো করে ঝুলিয়ে সোজা করার কথা বলেছিলেন। সেই কথাই রাখলেন শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। গুন্ডাদমন বিল পাশ গুন্ডাদের ‘সবক’ শেখানোর ক্ষেত্রে শুভেন্দু সরকারের প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে দেশ থেকে বের করার কথা দিয়েছিলেন তিনি। সেই কথাও রেখেছে শুভেন্দুর সরকার। এর মধ্যেই অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।
