
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর আর জি কর-কাণ্ডের তদন্তে নতুন করে গতি এসেছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছিল তিন আইপিএস আধিকারিক—বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তাকে। এবার তাঁদের সাসপেনশনের মেয়াদ আরও চার মাস বাড়ানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বহাল থাকবে। প্রশাসন সূত্রের দাবি, আর জি কর-কাণ্ডের তদন্তে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভূমিকা ও দায়িত্ব যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক নাইট শিফট করতে যান। ওই রাতেই সব শেষ। সেমিনার হলে তাঁকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। পরবর্তীকালে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার নেয় সিবিআই। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নতুন করে আর কাউকে পাকড়াও করেনি। শেষমেশ শিয়ালদহ আদালত ধৃত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। তবে এই তদন্তে সন্তুষ্ট নন অভয়ার বাবা-মা। তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় আরও অনেকেই জড়িত যারা এখনও তদন্তের আড়ালে রয়ে গিয়েছে।
বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফের নতুন করে আর জি কর ফাইলস খোলেন। এরপরেই তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনও মন্ত্রী তাঁদের মেসেজে কিংবা ফোনে কোনও নির্দেশিকা জারি করেছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার মধ্যেই সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের সিট গঠনের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। ঘটনার রাত থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত কী হয়েছিল, সেই ঘটনাক্রম নির্দিষ্ট করে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে ইতিমধ্যেই জেরা করে সিবিআই। দাহ করার সময় ঠিক কী ঘটে তা জানতে শ্মশানের ইনচার্জ ভোলানাথ পাত্রকে প্রায় মিনিট ২০ জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। শ্মশান কর্তৃপক্ষের দাবি, বাবা-মায়ের সম্মতিতেই দাহ করা হয় নির্যাতিতার দেহ। এই ঘটনার তদন্তে সিবিআইয়ের স্ক্যানারে তিন সাসপেন্ডেড আইপিএস আধিকারিক।
