
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রতি বর্ষাতেই ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা। নদীর জল উপচে গ্রাম, চাষের জমি ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়ায় বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় লক্ষাধিক বাসিন্দাকে। এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে আরও এক ধাপ এগোল রাজ্য প্রশাসন। আগামী চার বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বর্ষা শেষ হলেই প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে। রবিবার ঘাটাল টাউন হলে প্রাক-বন্যা প্রস্তুতি এবং ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অগ্রগতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস, সেচ দফতরের মুখ্যসচিব রাজেশকুমার সিনহা, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠকের শুরুতেই সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়। ঘাটাল, দাসপুর, চন্দ্রকোনা-সহ নদীবিধৌত বিস্তীর্ণ এলাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং প্রতি বছরের জলাবদ্ধতার সমস্যা বিবেচনায় রেখে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, বিশুদ্ধ পানীয় জল, খাদ্য, চিকিৎসা পরিষেবা ও উদ্ধারকাজ কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রাজেশকুমার সিনহা বলেন, “ভৌগোলিক কারণে ঘাটালে জল জমা পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব নয়। তবে প্রশাসনের প্রস্তুতি এমন হতে হবে, যাতে দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ন্যূনতম পর্যায়ে রাখা যায়। সেই লক্ষ্যে সমস্ত দপ্তরকে সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” এদিন সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস বলেন, “বর্তমান রাজ্য সরকার প্রকল্পের জন্য ১,২৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এবং আগামী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সমস্ত কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, প্রকল্পের অন্তর্গত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুইস গেটের সংস্কার ও মেরামতের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে বর্ষার সময় বড় ধরনের নির্মাণকাজ সম্ভব নয়। তাই বর্ষা শেষ হলেই নদী সংস্কার, বাঁধ মজবুতকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন-সহ প্রকল্পের মূল কাজ পূর্ণগতিতে শুরু হবে। বৈঠকে আরও জানানো হয়, বিশেষজ্ঞদের তৈরি মূল ডিপিআর-এ বাস্তব পরিস্থিতির নিরিখে কিছু সংশোধন করা হয়েছে। কোথাও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, কোথাও নকশায় সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত বিধায়করা নিজ নিজ এলাকার নদীভাঙন, জল নিকাশি, বাঁধের দুরবস্থা ও বন্যা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা সেই সমস্ত বিষয় নথিভুক্ত করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এদিকে, বৈঠক শেষে সেচমন্ত্রী-সহ সেচ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধিদল এদিন ঘাটালের বিভিন্ন নদী বাঁধ, সুইস গেট ও সংলগ্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। কোথায় কী ধরনের কাজ জরুরি এবং বর্ষার পরে কোন এলাকায় অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু হবে, তা খতিয়ে দেখা হয়।
