
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ভারত কেশরী ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিত্র ইনস্টিটিউটে উপস্থিত হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই রাজ্যের পাঠ্যক্রমে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, আদর্শ ও অবদান অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এদিন মিত্র ইনস্টিটিউটের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের জন্যও একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি দেশপ্রেম ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখার আহ্বান জানান। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শকে স্মরণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দেশের স্বার্থই সবার আগে হওয়া উচিত। তাঁর বার্তা ছিল, “নেশন ফার্স্ট, নেশন ফার্স্ট, নেশন ফার্স্ট”—এই আদর্শকে সামনে রেখেই আগামী প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে হবে।
সোমবার শ্যামাপ্রসাদের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে দিনভর একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। এদিন শ্যামাপ্রসাদ-স্মরণে প্রথমে রেড রোডে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর সেখান থেকে চলে যান মুরলীধর সেন লেনে। জন্মদিনে ভারত কেশরীকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে শ্যামাপ্রসাদের স্কুল মিত্র ইনস্টিটিউশনে যান তিনি। শুভেন্দু জানান, ঘরে ঘরে পূজিত হবেন শ্যামাপ্রসাদ। এই সরকার তাঁর স্বপ্ন পূরণ করবে। শ্যামাপ্রসাদের বিচারধারায় সরকার চলবে। শুভেন্দুর অভিযোগ, বাম-তৃণমূল শ্যামাপ্রসাদকে ভোলাতে চেয়েছে।
ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ১৯০৬ থেকে ১৯১৭ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন শ্যামাপ্রসাদ। ১৯২৪-১৯৩৮ পর্যন্ত স্কুল পরিচালনাতেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। এদিন মিত্র ইনস্টিটিউশনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে সিলেবাসে শ্যামাপ্রসাদের অবদান অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি, রাষ্ট্রপ্রেম, অখণ্ড ভারতের ভাবনা, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতে অন্তর্ভুক্তিতে ভারত কেশরীর ভূমিকা সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মকে জানাতে হবে। সেই কারণে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত সিলেবাসে থাকবেন শ্যামাপ্রসাদ। ভারতের শিল্পমন্ত্রী-সহ অন্য দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে তাঁর কর্মজীবন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনে, শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান সিলেবাসে রাখা হবে। শুভেন্দুর কথায়, “শ্যামাপ্রসাদের অবদান মুদ্রিত -পঠিত-চর্চিত হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।”
মিত্র ইনস্টিটিউশন স্কুলের উন্নতিতে একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিদ্যালয়টি সংস্কারের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও জানান তিনি। স্কুলের পুনর্গঠনের জন্য নিজের বিধায়ক তহবিল থেকে ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। তিনি আরও জানান, স্কুলের নির্মাণ অবয়বের পরিবর্তন না করে সংস্কার করা হবে। এই স্কুল অন্তর্ভুক্ত হবে পিএম শ্রী প্রকল্পে।
