
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বহু প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে রাজ্যের ১ কোটি ৩৪ লক্ষেরও বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেল অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক অনুদান। তবে সব আবেদনই মঞ্জুর হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে, কারণ আবেদনকারীরা নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে পারেননি। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, যাঁরা এখনও আবেদন করতে পারেননি বা নতুন করে যোগ্য হচ্ছেন, তাঁদের জন্য আগামী কয়েক মাস আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া চালু থাকবে।
বুধবার নেতাজি ইন্ডোরে অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদান দেওয়ার কর্মসূচি ছিল। সেখানে ডিবিটির মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৩৪ লক্ষের বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হল। আজ, বুধবার সারাদিনের মধ্যে প্রত্যেক যোগ্য আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে বলে জানানো হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। তাঁরা যোগ্যতা পূরণ করতে পারেনি। সরকারি টাকা যোগ্য আবেদনকারীরাই পাবেন। আমরা চাই না কোনও অযোগ্য এই প্রকল্পের সুবিধা পান।” উপস্থিত উপভোক্তাদের মুখ্যমন্ত্রী জিজ্ঞাসা করেন, “এইটা কি ভুল?” স্টেডিয়ামজুড়ে উত্তর আসে “না”।
অন্নপূর্ণা যোজনার বরাদ্দ, ১২ পাতার ফর্ম সব নিয়ে বিভিন্ন অংশে সামালোচনা হয়েছিল। এ দিন সেই প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আমাদের বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, কিন্তু ছাড়াই-বাছাইয়ের পর যোগ্যদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হল। আমরা চাই না কোনও যোগ্য বাদ যাক। কিন্তু অযোগ্যরা পাবেন না। এটা বিজেপির, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রীর টাকা নয়, সরকারের টাকা। অপব্যবহার হবে না।” আরও বলেন, “মূল আদিবাসী-সহ পাহাড়ের অনেকে মহিলা টাকা পেয়েছেন। আগের ২ কোটি প্রাপকদের মধ্যে পুরুষরাও টাকা পাচ্ছিলেন। তাদের নাম বাদ দিয়েছি। এছাড়াও কোনও অভারতীয় এই টাকা পাবেন না।” সঙ্গে তিনি আবার জানিয়েছেন সিএএ ও এসআইআর ট্রাইব্যুনালে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
১২ পাতার ফর্ম নিয়ে তিনি বলেন, “১২ পাতার ফর্ম অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু এই ফর্মের অনেকগুলি পাতায় লেখার কিছু নেই। তথ্য যাঁরা দিয়েছেন তাঁরা শুধু অন্নপূর্ণা নয়, অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প পাবেন। আলাদা করে কিছু ফর্ম পূরণ করতে হবে না। আপনারা ধৈয্য ধরে এই কাজ করেছেন ধন্যবাদ জানাই।”
এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি আধিকারিকরাও। মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল থেকে এই বিভাগের প্রধান সচিব মৌমিতা গোদারিয়া-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। তাঁদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই দপ্তরের প্রধান সচিব মৌমিতা গোদারিয়া ও তাঁর টিম অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই আবেদনগুলি ছাড়াই-বাছাই করেছেন। আমরা তো সময় বলে দিই। বাকি কাজ তাঁদের করতে হয়। অনেক ধন্যবাদ জানাই।”
বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যে অভিযোগ পাওয়ার ৬ মিনিটের মধ্যে পৌঁছয় পুলিশ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই সময়টা গড়ে ৩ ঘণ্টা। এই সময় কমিয়ে আনার জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর আগেই রাজ্যজুড়ে চালু হচ্ছে ১১২ হেল্পলাইন নম্বর। পুলিশের রেসপন্সের সময় কমাতে প্রত্যেক থানায় থাকবে একটি করে নির্দিষ্ট গাড়ি। মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুরনো নারী নির্যাতনের ঘটনারও বিচার হবে। অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রাজ্যে সরকার গঠনের পর মহিলা ক্ষমতায়নের জন্য একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিজেপি সরকার। রাজ্যের সব মহিলাদের সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত, অন্নপূর্ণা যোজনা, নারীদের উচ্চশিক্ষায় আর্থিক সাহায্য প্রদান-সহ একাধিক প্রকল্প চালু হয়েছে। কিন্তু শুধু নারী ক্ষমতায়ন নয়, নারী সুরক্ষার প্রতিও সমান জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। রাজ্যে যাতে আর একটিও আরজি করের মতো ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “অভয়া আর না। এরকম ঘটনা আর বরদাস্ত করা হবে না।” আরজি কর, কামদুনী, পার্ক স্টিটের মতো ঘটনায় বিচার দিতে নারী সুরক্ষা কমিশন তৈরি করেছে রাজ্য। এই কমিশনের চেয়ারপারসন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় ও মেম্বার সেক্রেটারি দুঁদে আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেন।
পুরনো কোনও নারী নির্যাতনের ঘটনায় কেউ বিচার না পেলে কমিশনের কাছে আবেদন জানাতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “বিচার পাবেন, অভিযুক্ত জেলেও যাবে। তাঁর সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত হবে।” আগামীকাল থেকে রাজ্যের প্রতি থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক চালু হবে। প্রতি মহকুমায় একটি করে মহিলা থানা থাকবে। এছাড়াও মহিলা পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে তৈরি হবে দুর্গা স্কোয়াড। দুর্গাপুজোর আগে চালু হবে ১১২ হেল্পলাইন। এর জন্য প্রতি থানায় একটি নির্দিষ্ট গাড়ি থাকবে। শুভেন্দু জানান, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্রে থানায় অভিযোগ জানানোর ৬ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে পুলিশের রেসপন্সের সময় ৩ ঘণ্টা। ১১২ চালু হলে রেসপন্সের সময় কমবে।
