
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মেসিকাণ্ডের তদন্তে ফের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ মঙ্গলবার তাঁকে আবারও তলব করেছে। গত কয়েক মাস ধরে চলা এই তদন্তে এর আগেও একাধিকবার তাঁকে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছিল। যদিও প্রথমদিকে তিনি হাজিরা এড়িয়ে গেলেও পরে তিনবার তদন্তকারীদের সামনে উপস্থিত হয়ে নিজের বক্তব্য জানান। এবার কলকাতা হাই কোর্টে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে ফের তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে, ফলে মেসিকাণ্ডের তদন্ত নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
মেসিকাণ্ড ঘিরে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, নির্ধারিত অনুমতি ছাড়াই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মাঠে প্রবেশ করে ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কাছে পৌঁছে যান তিনি। পাশাপাশি প্রভাব খাটিয়ে অনুষ্ঠানের অন্তত ২২ হাজার টিকিট সংগ্রহ করা, টিকিট বণ্টনে অনিয়ম, আর্থিক প্রতারণা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে চলেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত লিওনেল মেসির যুবভারতী সফরকে ঘিরে। সেই অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শতদ্রু দত্তই অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তকারীরা একাধিকবার হাজিরার নোটিস পাঠালেও প্রথমদিকে অরূপ বিশ্বাস উপস্থিত হননি। পরে অবশ্য তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন বলেই দাবি করে টানা তিনবার পুলিশের সামনে হাজিরা দেন।
এরই মধ্যে কলকাতা হাই কোর্ট অরূপ বিশ্বাসকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে তদন্তে কোনও বাধা নেই বলেই পুলিশ নিজেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জানা গিয়েছে, আগামী ১০ জুলাই কলকাতা হাই কোর্টে মেসিকাণ্ডের তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার কয়েক দিন আগেই অরূপ বিশ্বাসকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। গত ছয় মাস ধরে এই মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ।
এই মামলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল লিওনেল মেসির নিজস্ব ম্যানেজমেন্ট টিমের অভিযোগ। তারা কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছিল, অনুষ্ঠানের নির্ধারিত নিরাপত্তা ও প্রোটোকল ভেঙে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে গিয়ে তিনি বারবার মেসির খুব কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং ছবি তোলার সময় অপ্রয়োজনীয় শারীরিক যোগাযোগেরও চেষ্টা করেন। এমনকি মেসির কাঁধ ও কোমরে হাত রাখার ঘটনাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে মেসির ম্যানেজমেন্ট টিম।
সব মিলিয়ে মেসিকাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আদালতে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগে পুলিশের এই নতুন জিজ্ঞাসাবাদকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা আশা করছেন, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা নথিপত্রের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এখন নজর আগামী ১০ জুলাই হাই কোর্টে জমা পড়তে চলা তদন্ত রিপোর্ট এবং তার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে।
