
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের উদ্যোগে আজ থেকেই শুরু হচ্ছে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণ যোজনা’র কাজ। নবান্ন থেকে বিকেলে শুরু হবে ফর্ম ফিলআপ প্রক্রিয়া। অনলাইন ও অফলাইন— দুই মাধ্যমেই মহিলারা মাসে ৩ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এরপর আবেদনকারীদের তথ্য খতিয়ে দেখে যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা তৈরি করবে প্রশাসন। সূত্রের খবর, এসআইআরে নাম বাদ পড়া ব্যক্তিদের তালিকাকেই প্রাথমিক বাছাইয়ের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে যাঁদের নাম এসআইআরে নেই, তাঁদের আবেদন প্রথম পর্যায়েই বাতিল হতে পারে। প্রশাসনের অনুমান, এমন আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ, যার ফলে সরকারের প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
কেন্দ্রের ‘অন্নপূর্ণ যোজনা’র সুবিধা পাওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতামান স্থির করা হয়েছে। সকলেই এর সুবিধা পাবেন না। রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর মহিলাদের মনে তা নিয়ে আশঙ্কা ছিল, তবে কি আর মাসে মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের দেড় হাজার টাকা করে পাবেন না? তা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার মঙ্গলবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যতদিন ‘অন্নপূর্ণ যোজনা’ চালু না হচ্ছে, ততদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ যাঁরা পেতেন, তাঁরা পাবেন। পরে ঝাড়াই-বাছাইয়ের মধ্যে দিয়ে যোগ্যদের দেওয়া হবে মাসে ৩ হাজার টাকা করে। মঙ্গলবার এই ঘোষণার পরপর বুধবার থেকেই নবান্ন থেকে নতুন প্রকল্পের ফর্ম বিলি চালু হবে। একইসঙ্গে শুরু হচ্ছে যোগ্য বাছাইয়ের কাজও।
কোন পদ্ধতিতে সেই কাজ করলে সুবিধা হবে সরকারের? কাজ নেহাৎ সহজ নয়। এসআইআরে বাদের তালিকা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি খোঁজ নিতে হচ্ছে জেলার ট্রাইব্যুনালগুলোতেও। সেখানে এখনও যাঁদের নাম বিবেচনাধীন, তাঁদের নামগুলিকেও নজরে রাখতে হচ্ছে। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আপাতত এসআইআরে বাদ পড়া ৫৮ লক্ষ নামের মধ্যে থেকেই বাদ পড়া মহিলাদের নাম ধরে ধরে যাচাই করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা ছিল মোটামোটি ২৯ লক্ষ। এর মধ্যে থেকে আপাতত কয়েকটি জেলার তথ্য অনুযায়ী, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ থেকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রাপ্তির যোগ্যতার নিরিখে আপাতত ৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৫২৮ জনকে বাদের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার।
এতদিন ২ কোটির বেশি মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পেতেন বলে তথ্য দিয়েছিল বিগত রাজ্য সরকার। এখন অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় কতজন আসবেন, সেই হিসেবনিকেশে ব্যস্ত জেলা আধিকারিকরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, নাম, আধার নম্বর, ভোটার কার্ডের তথ্য মিলিয়ে প্রতি জেলায় যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত নির্দিষ্ট পোর্টালটিও। সেখান থেকে মৃত মহিলা উপভোক্তাদের নাম সহজে বাদ দেওয়া যাবে। সবমিলিয়ে, নয়া প্রকল্পের প্রস্তুতি রীতিমতো খড়ের গাদায় সূচ খোঁজার মতো।
