
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন জুতো কিনে প্রথম দিন পরার আনন্দ অনেক সময়ই মাটি হয়ে যায় পায়ে ফোস্কা বা ‘শু বাইট’-এর যন্ত্রণায়। বিশেষ করে গোড়ালি, পায়ের আঙুল বা পাশের অংশে জুতোর ঘর্ষণে চামড়া উঠে গিয়ে ব্যথা, জ্বালাপোড়া এমনকি রক্তপাতও হতে পারে। তখন অনেকেই তড়িঘড়ি ব্যান্ড-এইড ব্যবহার করেন। তবে এটি মূলত সাময়িক সুরক্ষা দেয়, সমস্যার আসল কারণ দূর করে না। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন জুতোর সঙ্গে ত্বকের অতিরিক্ত ঘর্ষণই শু বাইটের প্রধান কারণ। তাই ফোস্কা হওয়ার পর চিকিৎসা করার চেয়ে, আগে থেকেই প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া বেশি কার্যকর। ঘরেই সহজলভ্য কয়েকটি সাধারণ উপাদান ব্যবহার করে জুতো পরার আগে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব, ফলে নতুন জুতো পরলেও অস্বস্তি ও ফোস্কার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
১. পেট্রোলিয়াম জেলি বা নারকেল তেল নতুন জুতো প্রথম কয়েকবার পায়ে দেওয়ার আগে তার শক্ত হিল বা ভেতরের কোণাগুলোতে ভালো করে পেট্রোলিয়াম জেলি মাখিয়ে সারারাত রেখে দিন। জেলের আর্দ্রতা জুতোর চামড়াকে নরম করে তোলে। এছাড়া জুতো পরার আগে পায়ের যেসব অংশে ঘর্ষণ বেশি হয়, যেমন গোড়ালি বা আঙুলের পাশে সামান্য নারকেল তেল লাগিয়ে নিতে পারেন। এটি চামড়ার ওপর একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করে, যার ফলে জুতোর চামড়া সহজে পায়ে কামড়ে বসতে পারে না।
২. ট্যালকম পাউডার পায়ে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার কারণে জুতোর ভেতরের অংশের সঙ্গে ঘর্ষণ অনেক বেড়ে যায়, যা ফোস্কা পড়ার অন্যতম মূল কারণ। এই সমস্যার মোক্ষম দাওয়াই হল সাধারণ ট্যালকম পাউডার । জুতো পায়ে দেওয়ার ঠিক আগে পায়ে এবং জুতোর ভেতরে সামান্য পাউডার ছড়িয়ে নিন। পাউডার পায়ের বাড়তি আর্দ্রতা বা ঘাম শুষে নেয় এবং পা শুষ্ক রাখে। ফলে চামড়া ও জুতোর ঘর্ষণ কমে গিয়ে ফোস্কা পড়ার ঝুঁকি এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যায়।
৩. সাধারণ সাবানের টুকরো শুনতে কিছুটা অদ্ভুত লাগলেও জুতোর কামড় থেকে বাঁচতে দারুণ কাজ করে কাপড় কাচার বা গায়ে মাখার শক্ত সাবান। নতুন জুতোর যে অংশগুলো একটু বেশি শক্ত বা ধারালো মনে হচ্ছে, সেখানে শুকনো সাবানের টুকরো ভালো করে ঘষে দিন। সাবানের পিচ্ছিল ভাবের কারণে জুতোর ভেতরের অংশটি মসৃণ হয়ে যায়। এর ফলে জুতো পায়ে দিয়ে হাঁটলেও তা চামড়ায় ঘষা খায় না এবং ফোস্কা পড়ার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
