
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবিতে গত ২০ দিন ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে অনশনে বসে রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘ অনশনের জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে, এমনকি কথা বলার মতো শক্তিও কমে গিয়েছে। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই সোনম ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী ২০ জুলাই সংসদ অভিযান কর্মসূচির পর তিনি অনশন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে তার আগে দেশবাসীর কাছে এই আন্দোলন সফল করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
গত ২০ দিনের অনশনে এখনও পর্যন্ত ৯ কিলো ওজন কমে দিয়েছে সোনমের। মেদক্ষয় হয়েছে, পেশিরও ক্ষয় হচ্ছে। চিকিৎসকরা একপ্রকার জবাব দিয়ে দিয়েছেন। সরকারি চিকিৎসকরা শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর জানিয়ে দিয়েছেন, যে কোনও সময় ‘অর্গ্যান ফেলিওর’ হতে পারে অর্থাৎ একাধিক অঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে সোনম ওয়াংচুকের। গোটা দেশ সোনমের কাছে আর্জি জানিয়েছে অনশন ভাঙার জন্য। এই অবস্থার মাঝেই ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ওই সমাজকর্মী। তিনি বলেন, ‘আমার শরীর দুর্বল ঠিকই তবে, এতটাও নয় যে ৩-৪ দিনে মারা যাব।’ এরপরই বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে আমার আর্জি আগামী ২০ জুলাই সংসদ অভিযান সফল করুন। যদি এই অভিযান সফল হয় তবেই আমি এই অনশন ভাঙতে পারব।’
ভিডিওতে ওয়াংচুক বলেন, ‘অনেকেই আমাকে অনশন ভাঙতে অনুরোধ করছেন। কিন্তু আমি আপনাদের সবাইকে বিপুল সংখ্যায় যোগ দিতে এবং একটি ছোট পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করছি।’ এর সঙ্গেই একটি ফোন নম্বর শেয়ার করেছেন সোনম। যে বা যারা এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসছেন তাদের 7011670115 -এই নম্বরে মিসকল দিতে বলেছেন। পাশাপাশি www.cockroachjanataparty.com এই ওয়েবসাইটে নিজের নাম নথিভুক্ত করার কোথাও বলেছেন। সোনম আরও বলেন, ‘যেভাবেই হোক, বিপুল সংখ্যায় আসুন। আপনাদের মায়েদের সঙ্গে আনুন, কারণ সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা অতুলনীয়। আমি চাই মায়েরা এই মিছিলের নেতৃত্ব দিক। তারাই আমাদের সংসদে নিয়ে যাক। ২০শে জুলাই আপনাদের সবার সাথে দেখা হবে। যদি এটি সফল হয়, আমি আপনাদের আশ্বাস দিতে পারি যে, যখন এই বিষয়টি সঠিক হাতে আসবে, আমি শান্তিতে ঘুমাতে এবং আমার অনশন ভাঙতে পারব।”
ওয়াংচুক আরও বলেন, ডাক্তারি পরীক্ষা অনুযায়ী আমারর শরীর দুর্বল ঠিকই, কিন্তু মৃত্যু হওয়ার মতো অবস্থা এখনও তৈরি হয়নি। দ্বিতীয়ত, আমি অনশন ভাংলে কি পরিবর্তন হবে? সরকারের কাছে কী বার্তা যাবে, যে জবাবদিহিতার কোনও প্রয়োজন নেই? আপনারা আমার জীবন নিয়ে চিন্তিত, কিন্তু যে ২০ জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছে তাদের কী হবে? আমার জীবন এবং আমার স্বাস্থ্য এতটাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু, এই বার্তাগুলোকে সম্মান জানিয়ে, আমি ২০ জুলাইয়ের জন্য একটি মধ্যপন্থা খুঁজে পেয়েছি।
