
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাড়িতে বাগান করার শখ এখন অনেকেরই। ছাদের ছোট্ট কোণ, বারান্দা কিংবা বাড়ির সামনের সামান্য জায়গাতেই নানা ধরনের ফুল, ফল ও সবজির গাছ লাগাচ্ছেন অনেকে। তবে সুস্থ ও সবল গাছের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল উর্বর মাটি। আর সেই মাটির গুণগত মান বাড়াতে সব সময় দামি সার বা নতুন মাটি কেনার প্রয়োজন পড়ে না। বাগান থেকেই তৈরি হওয়া শুকনো পাতা, ঘাস, সবজির খোসা এবং অন্যান্য জৈব বর্জ্য ব্যবহার করে সহজেই মাটির উর্বরতা বাড়ানো সম্ভব। এই পরিবেশবান্ধব কৌশলটির নাম ‘স্যান্ডউইচ পদ্ধতি’।
∆ আবর্জনা থেকেই পুষ্টি?
প্রতিটি ফসলের মরশুম শেষে বাগানে প্রচুর শুকনো পাতা ও ডালপালা জমে। সাধারণত মানুষ এগুলি ফেলে দেয়। কিন্তু এই ‘বর্জ্য’ দিয়েই তৈরি হতে পারে বাগানের খাঁটি মাটি। কীভাবে? পদ্ধতিটি একটু ধীরগতির। সময় লাগে মাস দুয়েক। তবে এর ফলে প্রতি মরশুমে নার্সারি থেকে আর দাম দিয়ে সার কেনার প্রয়োজন নেই। খরচ কমবে এক ধাক্কায় অনেকটা। সাধারণত, শীতের শেষে কিংবা জুন মাসের দিকে এই পদ্ধতি শুরু করার সেরা সময়।
∆ কী এই স্যান্ডউইচ পদ্ধতি?
পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ এবং ঘরোয়া। পর পর কয়েকটি ধাপে এটি করা যায়। কী করবেন?
বর্জ্য সংগ্রহ: গাছের শুকনো অংশ, লতা ও আগাছা এক জায়গায় জড়ো করুন।
প্রথম স্তর: যে টব বা গ্রো ব্যাগে গাছ লাগাবেন, তার একদম নিচে প্রথমে কিছুটা সাধারণ মাটির স্তর তৈরি করুন।
স্যান্ডউইচ তৈরি: ওই মাটির স্তরের ওপর জড়ো করা বাগানের বর্জ্য বা শুকনো পাতা বিছিয়ে দিন। এর ওপর আবার মাটির স্তর দিন। এইভাবে মাটি ও বর্জ্যের পর পর দুই থেকে তিনটি স্তর তৈরি করুন, যাতে পাত্রের অর্ধেকটা ভরে যায়।

পরিমিত জল দিন: স্তর তৈরি হয়ে গেলে পাত্রটিতে ভালো করে জল ঢেলে দিন। জল দিলে পচন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়।
অপেক্ষা: এবার পাত্রটিকে দুই থেকে তিন মাস এভাবেই রেখে দিন। প্রকৃতি নিজের নিয়মেই ভেতরের জৈব উপাদানগুলিকে ভাঙতে শুরু করবে।
∆ ফলাফল ও সুবিধা—
কয়েক মাস পর দেখা যাবে, ভেতরের সমস্ত বর্জ্য পচে গিয়ে একেবারে কালো, ঝুরঝুরে ও হালকা উর্বর মাটিতে পরিণত হয়েছে। এই পদ্ধতিতে খাটনি শুধু একবারই। বারবার নার্সারি থেকে ভারী মাটির বস্তা বয়ে আনার ঝক্কি থাকে না। ছাদবাগানের জন্য এই হালকা ও পুষ্টিকর মাটি আদর্শ। বাজারের রাসায়নিক সারের চেয়ে ঘরের এই প্রাকৃতিক সার অনেক বেশি কার্যকরী।
যাঁরা বাড়িতেই ফল, ফুল বা সবজি চাষ করেন, তাঁদের জন্য ‘স্যান্ডউইচ পদ্ধতি’ হতে পারে সহজ, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর একটি সমাধান। সামান্য যত্ন ও পরিকল্পনাতেই বাগানের মাটিকে আরও উর্বর করে তুলতে পারে এই অভিনব কৌশল।
