Life Style News

1 hour ago

Vastu Tips: বাস্তুদোষে কি নেমে আসতে পারে অশুভ ছায়া? বাড়ি তৈরির সময় এই ভুলগুলি এড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

Vastu Rules for Homes
Vastu Rules for Homes

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:   বাড়ি মানেই শুধু ইঁট, কাঠ, সিমেন্ট আর পাথরের সমষ্টি নয়—অনেকের বিশ্বাস, এটি পরিবারের সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মানসিক স্থিতির অন্যতম ভিত্তি। ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, একটি বাড়ির দিকনির্দেশ, কক্ষের অবস্থান, প্রবেশদ্বার কিংবা রান্নাঘরের স্থানও মানুষের জীবনে ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়।

বাস্তুবিশ্বাস অনুসারে, বাড়ি নির্মাণ বা সাজানোর সময় কিছু সাধারণ ভুল দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি, আর্থিক ক্ষতি, পারিবারিক কলহ কিংবা স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে। অনেকের মতে, এসব ত্রুটি গুরুতর হলে জীবনে বড় ধরনের বিপর্যয়ও ডেকে আনতে পারে। যদিও এই দাবিগুলির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সর্বজনস্বীকৃত নয়, তবুও বাস্তুশাস্ত্রে বিশ্বাসী মানুষেরা এগুলি গুরুত্ব দিয়ে মেনে চলেন।

১) আধুনিক আবাসন সংস্কৃতিতে এক দেওয়াল জুড়ে দুটি বাড়ি তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু বাস্তুমতে, এই যৌথ দেওয়াল গৃহস্বামীর ভবিষ্যতের জন্য যমরাজের সমান। তাই গৃহের চারপাশ এবং মূল প্রবেশদ্বারের সামনে কিছুটা উন্মুক্ত স্থান রাখা আবশ্যিক। একইভাবে, কোনও ভূখণ্ডের উত্তর বা পূর্ব দিকে ঘেঁষে বাড়ি তৈরি করলে সম্পত্তি নাশ অনিবার্য। শাস্ত্রের বিধান, সর্বদা ভূখণ্ডের ঠিক মধ্যভাগে বা ব্রহ্মস্থানে গৃহ নির্মাণ করা উচিত।

২) বাড়ির ঠিক কেন্দ্রস্থল বা ব্রহ্মস্থানে ভোজনকক্ষ থাকলে গৃহস্বামীর জীবন কাটে চরম সংঘর্ষে। এই স্থানে শৌচালয় কিংবা লিফট থাকলে পারিবারিক বিপর্যয় অবধারিত। আবার পশ্চিম দিকের চেয়ে পূর্ব দিকের দেওয়াল ভারী হলে আকস্মিক গাড়ি দুর্ঘটনার যোগ তৈরি হয়। দক্ষিণ দিকে জলাশয় থাকলে গৃহকর্ত্রী চিররোগী হন, নারীদের ওপর অত্যাচার বাড়ে।

৩) গৃহের আগ্নেয় কোণে বা দক্ষিণ-পূর্বে বট, অশ্বত্থ বা পাকুরের মতো বৃক্ষ থাকলে জাতকের চরম কষ্ট ও মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। মূল ফটকের সামনে সোজা কোনও পথ বা গাছ থাকাও এক প্রকার দ্বারদোষ, যা গৃহস্বামীকে কঠিন রোগে আক্রান্ত করে। এমনকী সিংহদুয়ারের মাঝখানে ছোট পকেট দরজা তৈরি করাও শাস্ত্রীয় মতে ‘যমরাজের মুখ’ খোলার শামিল। পাশাপাশি, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টের মধ্যে যদি কোনও মন্দির, পাহাড় বা উঁচু কাঠামোর ছায়া বাড়ির ওপর পড়ে, তবে সেই ‘ছায়াবেধ’ গৃহস্বামীর পতন ডেকে আনে।

৪) নতুন বাড়ি তৈরির সময় পুরোনো কাঠ বা উপকরণ ব্যবহার করলে বংশনাশ হয়। সূর্য যে নক্ষত্রে অবস্থান করছে, তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় ‘বৃষ চক্র’। এই চক্রের অশুভ নক্ষত্রযোগে গৃহের শিলান্যাস করলে অগ্নিভয় ও গৃহস্বামীর পতন ঘটে। সবচেয়ে মারাত্মক হল ‘রাহুমুখ’। সূর্যের রাশি অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে দিক নির্ণয় করে তবেই মাটি খনন করা উচিত। রাহুর মুখের ওপর আঘাত লাগলে গৃহস্বামীর জীবন সংশয় দেখা দেয়। 

নতুন বাড়ি নির্মাণ হোক বা পুরনো বাড়ির সংস্কার—বাস্তুশাস্ত্র মেনে পরিকল্পনা করলে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়। তাই যারা এই শাস্ত্রে আস্থা রাখেন, তাঁদের কাছে বাড়ির নকশা তৈরির আগে সম্ভাব্য বাস্তুদোষ সম্পর্কে সচেতন হওয়াই হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। 


You might also like!