
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রথযাত্রার পর নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হলে আসে উল্টোরথ বা বাহুড়া যাত্রা। এই দিনেই প্রভু জগন্নাথ, প্রভু বলরাম এবং দেবী সুভদ্রা মাসির বাড়ি থেকে পুনরায় নীলাচলে নিজেদের মন্দিরে ফিরে আসেন। বিভিন্ন অঞ্চলে এই উৎসব সাত দিন বা দশ দিন পর পালনের রীতি প্রচলিত রয়েছে।
হিন্দু ধর্মে উল্টোরথের বিশেষ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই শুভ তিথিতে প্রভুর দর্শন ও পূজা করলে জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং সংসারে সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। বহু মানুষ এ দিন রথের দড়ি স্পর্শ করে কিংবা টেনে নিজেদের সৌভাগ্য কামনা করেন। জ্যোতিষ বিদদের মতে, উল্টোরথের দিন কয়েকটি সহজ টোটকা পালন করলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে। তাঁর দাবি, এই শুভ লগ্নে ভক্তিভরে প্রভু জগন্নাথের আরাধনা, দান-ধ্যান এবং কিছু বিশেষ আচার পালন করলে সংসারে সমৃদ্ধি বৃদ্ধি, আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং শুভ শক্তির আশীর্বাদ লাভের সম্ভাবনা বাড়ে।
* রথের দিন যে কোনও জগন্নাথ মন্দিরে হলুদ রঙের নতুন বস্ত্রের উপর ১১ রকমের ফল, ১১ রকমের মিষ্টি এবং ১১টি কয়েন রেখে অর্পণ করে মনের ইচ্ছা জানান। নিষ্ঠাভরে এই কাজটি করতে পারলে মনস্কামনা পূরণ হয়।
* রথযাত্রার পরের দিনে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গঙ্গাস্নান করতে পারলে খুব ভাল হয়। এই দিন নিরামিষ আহার করতে হবে। বাড়িতে কোনও রকম আমিষ রান্না করা যাবে না। জগন্নাথদেবকে এই দিন সাদা এবং হলুদ রঙের ফুল দিয়ে সাজান।
* জগন্নাথদেবের মন্দিরে ময়ূরের পালক অর্পণ করতে পারলে খুব ভাল হয়। বাড়ির সামনে দিয়ে বড় রথ না গেলেও, বাচ্চাদের ছোট রথের দড়ি ধরে টানুন কিংবা রথের দড়ি ছুঁলেও হবে। খুব ভাল ফল পাওয়া যায়, জগন্নাথদেবের আশীর্বাদ লাভ হয়।
* একটা মাটির প্রদীপে ঘি এবং দুটো লবঙ্গ দিয়ে যে কোনও জগন্নাথ মন্দিরে গিয়ে জ্বালুন। রথ যে হেতু জয়ের প্রতীক, তাই এই দিন যে কোনও টোটকা নিষ্ঠাভরে পালন করতে পারলে ভাগ্য জয় করা যায়।
* রথ যেহেতু জয়ের প্রতীক, তাই এই দিন যে কোনও টোটকা নিষ্ঠাভরে পালন করতে পারলে ভাগ্য জয় করা যায়।
তবে জ্যোতিষশাস্ত্রে বর্ণিত এই টোটকাগুলি মূলত প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে। এগুলির কার্যকারিতা ব্যক্তির বিশ্বাস ও আস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রভুর আরাধনাই এই পবিত্র দিনের প্রধান বার্তা বলে মনে করেন অনেকেই।
