Life Style News

1 hour ago

Drug Rule Update: প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর মিলবে না উচ্চমাত্রার অ্যালকোহলযুক্ত ওষুধ, কড়া নিয়মে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

Prescription-Only Alcohol Medicines
Prescription-Only Alcohol Medicines

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  ওষুধের অপব্যবহার এবং নেশার প্রবণতা রুখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এতদিন নিয়মের কিছু ফাঁকফোকরের সুযোগে উচ্চমাত্রার ইথাইল অ্যালকোহলযুক্ত বেশ কিছু ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বাজারে বিক্রি হতো। অভিযোগ ছিল, চিকিৎসার পরিবর্তে অনেকেই এই ধরনের ওষুধ নেশার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছিলেন।

এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ড্রাগস রুলসের ‘সিডিউল কে’-তে সংশোধন করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১২ শতাংশের বেশি (ভলিউম বাই ভলিউম) ইথাইল অ্যালকোহল রয়েছে এবং যার পরিমাণ ৩০ মিলিলিটারের বেশি, এমন কোনও ওষুধ আর বিশেষ ছাড়ের আওতায় থাকবে না। ফলে এই ধরনের ওষুধ উৎপাদন, মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি, এগুলিকে ‘সিডিউল এইচ-১’-এর অন্তর্ভুক্ত করায় শুধুমাত্র নিবন্ধিত চিকিৎসকের বৈধ প্রেসক্রিপশন দেখিয়েই কেনা যাবে।

∆ এতদিন কীভাবে নিয়মের ফাঁক গলে যাচ্ছিল?

এর আগে সিডিউল কে-র একটি নিয়ম অনুযায়ী, এলাচ, আদা বা কিছু নির্দিষ্ট ভেষজ উপাদানযুক্ত অ্যালকোহলভিত্তিক ওষুধ লাইসেন্স ও প্রেসক্রিপশনের বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় পেত। অভিযোগ, সেই সুযোগই কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার অ্যালকোহলযুক্ত কিছু টিংচার ও অ্যারোমেটিক প্রস্তুতি বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছিল। দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে এই ওষুধ নেশার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগও আসে কেন্দ্রের কাছে।

∆ কী বদলাচ্ছে?

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে উচ্চমাত্রার অ্যালকোহলযুক্ত এসব ওষুধ আর সাধারণ ওষুধের মতো বিক্রি করা যাবে না। উৎপাদন, মজুত, সরবরাহ এবং খুচরো বিক্রির প্রতিটি ধাপে থাকবে কড়া নজরদারি। ফার্মেসিগুলিকেও প্রতিটি বিক্রির রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে প্রয়োজনে সহজেই নজরদারি চালানো যায়।

∆ কেন এই সিদ্ধান্ত?

সরকারের মতে, এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা বজায় রাখা, কিন্তু সেগুলিকে যেন নেশার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা না যায়, তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সব ধরনের অ্যালকোহলযুক্ত ওষুধকে একটি অভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে।

বর্তমানে আয়ুর্বেদ ও ইউনানি সিরাপে সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ এবং হোমিওপ্যাথিক ওষুধে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ অ্যালকোহল রাখার অনুমতি রয়েছে। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই উচ্চমাত্রার অ্যালকোহলযুক্ত অন্যান্য ওষুধের ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ন্ত্রণ চালু করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে এমন বিভিন্ন ওষুধের বিক্রি ও বিতরণের উপর নজরদারি আরও জোরদার করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি রোধ, সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং বেআইনি বেচাকেনা ঠেকাতে ধারাবাহিকভাবে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, নতুন এই বিধি কার্যকর হলে অ্যালকোহলযুক্ত ওষুধের অপব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

You might also like!