
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রথযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে সোমবার প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক, জেলাশাসক-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা। রথযাত্রা উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সরকারের দায়িত্ব। সেই কারণেই এবারের রথযাত্রায় প্রশাসন সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবে। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী ৭৫টি রথযাত্রা মেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেবা কেন্দ্র চালু করা হবে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তত্ত্বাবধানে এই সেবা কেন্দ্রগুলি পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটি, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়ে এই পরিষেবা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শ্রাবণ মাসের পুণ্যার্থীদের জন্যও বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন সেই টাকা দেওয়া হবে। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম বছর তালিকা তৈরির ত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন... আগামিদিনে ত্রুটিমুক্ত তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হবে। এখন যে কাজ শুরু হলো, তা আগামীতে মহীরূহে পরিণত হবে।’ রথযাত্রা কমিটিগুলিকে যে টাকা দেওয়া হয়েছে, তা রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কাজের জন্য খরচ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তীর্থক্ষেত্র সার্কিট রাজ্য বাজেটে রয়েছে-- প্রাচীন মঠ ও মন্দিরের সংস্কার, হেরিটেজের আওতায় আনার কাজ চলবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২ বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ কাজ, ধর্মীয় স্থানগুলি উন্নতি ও রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এ বারের শ্রাবণ মেলা নিয়েও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের তিনটি শিব মন্দির আপাতত বেছে নেওয়া হয়েছে। হুগলির তারকেশ্বর ধাম, জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির এবং জয়ন্তী এলাকার একটি শিব মন্দির। এর মধ্যে শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর যাওয়ার পথে ৫ কিমি অন্তর অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশের সহায়তা ক্যাম্প ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, বিশ্রামের জায়গা তৈরি করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আবহাওয়া ঠিক থাকলে, শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার জল ঢালতে যাওয়া পুণ্যার্থীদের উপর সরকারি হেলিকপ্টার থেকে ফুল বৃষ্টি করা হবে। এই বছর ১৪ জুলাই নিজে তারকেশ্বর যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৬ জুলাই কলকাতায় ইসকনের রথযাত্রার উপস্থিত থাকবেন।
