
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রেমের সম্পর্কে সব সময় যে একই রকম উষ্ণতা থাকবে, এমনটা নয়। সময়ের সঙ্গে কাজের চাপ, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা কিংবা মানসিক ক্লান্তির কারণে সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতেই পারে। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে মনে হয় আপনার সঙ্গিনী আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না, বারবার এড়িয়ে যাচ্ছেন বা সম্পর্ক থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবার সময় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও সম্পর্ক ভাঙার আগে অনেকেই সরাসরি কিছু বলতে পারেন না। তার বদলে আচরণে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন—
১. সঙ্গিনী কি আর আগের মতো ফোন-মেসেজ করে না? প্রসঙ্গ উঠলে, নানান রকম ব্যস্ততার কথা বলে। কথোপকথন দ্রুত শেষ করে দিতে চায়।
২. দেখা করার প্ল্যান নানা অজুহাতে বাতিল করে। এক্ষেত্রে খেয়াল করতে হবে যে, সে সত্যিই ব্যস্ত হয়ে পড়েনি তো? হয়তো কেরিয়ারের চাপ তাকে সামাজিকভাবে একা করে তুলছে। ভুলে গেলে চলবে না, এমন লক্ষণ যাচাইয়ের অর্থ অকারণে সন্দেহ করা নয়।
৩. ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা এড়িয়ে যায় সঙ্গিনী। দীর্ঘমেয়াদি কোনও পরিকল্পনার প্রসঙ্গ উঠলেই যেনতেনপ্রকারেণ কথা বদলে ফেলে।
৪. ছোট বিষয়েই বিরক্ত হয়ে যায় আজকাল। হাসির কথাতে আগের মতো হাসে না। নিজেও যেচে কোনও মজার ঘটনা ভাগ করে নেয় না আপনার সঙ্গে।
৫. আপনার সারাদিন কেমনভাবে কাটছে, তা জানতে আর সে আগ্রহী নয়। কোনও বিষয় যদি নিজের থেকেও জানতে চায়, তবুও তার উত্তর শোনার মতো অপেক্ষা করে না। আপনার সমস্যার কথাতেও দু-এক শব্দে উত্তর দিয়ে এড়িয়ে যায়।
৬. একসঙ্গে সময় কাটানোর চেয়ে একা থাকতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে সঙ্গিনীটি। অথবা ঘন ঘন বন্ধুদের সঙ্গে মিট-আপের প্ল্যান করলেও আপনাকে সেসবের অংশ করতে চায় না। ‘মি টাইম’ সকলেরই দরকার, কিন্তু সে কি আপনার প্রতি সামগ্রিকভাবেই অনাগ্রহী?
৭. সে আর আগের মতো ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখায় না। হাত ধরে না, প্রশংসা করে না। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কথাও আর বলে না আপনাকে। এমনকী ঝগড়া মেটানর চেষ্টাও করে না।
কী করবেন এমন অবস্থায়?
কেবল প্রেমিকা নয়, সম্পর্কে থাকা যে কারও দিক থেকেই এমন নিঃস্পৃহতা লক্ষ করা যেতে পারে। মনোবিদরা বলেন, সবার প্রথম প্রশ্নটি নিজেকে করতে হবে— এমন নয় তো যে আপনারই কোনও আচরণ দূরত্ব তৈরি করেছে সম্পর্কে? আবার এমনও হতে পারে যে ব্রেক-আপ করতে চাওয়ার কারণটি সঙ্গিনীর দিক থেকেই।
তাই তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঙ্গিনীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি, মানসিক চাপ বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণেও এমন আচরণ দেখা দিতে পারে। পারস্পরিক বিশ্বাস, ধৈর্য এবং স্পষ্ট যোগাযোগই একটি সুস্থ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার অন্যতম চাবিকাঠি।
