
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সমতলে বসন্তের মোলায়েম হাওয়া বইছে বটে, কিন্তু দুপুরের রোদে ইতিমধ্যেই গরমের ইঙ্গিত স্পষ্ট। ফ্যানের রেগুলেটর একটু ওপরে তুললেই বোঝা যায়—দাবদাহ আর বেশি দূরে নয়। আর ক’দিন পরেই হাঁসফাঁস শুরু হবে বঙ্গবাসীর। তাই গরমের আগেই যদি পাহাড়ের কোলে একটু ঠান্ডা ছোঁয়া খুঁজে নিতে চান, তবে মার্চের শেষই হতে পারে আদর্শ সময়।
অনেকেরই ধারণা, মার্চ মানেই বরফ গলে যাওয়া। কিন্তু বাস্তবে ভারতের বেশ কিছু পাহাড়ি এলাকায় তখনও সাদা তুষারের চাদর বিছিয়ে থাকে। তুলনামূলক কম ভিড়, নির্মল প্রকৃতি আর বরফে মোড়া দৃশ্য—সব মিলিয়ে এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে। দেখে নিন এমনই ৫টি ঠিকানা—
১. গুলমার্গ, জম্মু ও কাশ্মীর: কাশ্মীরের এই ‘ফুলের উপত্যকা’ মার্চে থাকে ধবধবে সাদা। পীরপাঞ্জাল রেঞ্জের এই জনপদ এখন স্কিইং-প্রেমীদের স্বর্গরাজ্য। এশিয়ায় উচ্চতম গন্ডোলা রাইডে চেপে যখন আপনি আফারওয়াত পিকে পৌঁছাবেন, চারপাশ দেখে মনে হবে কোনও এক রূপকথার দেশে দাঁড়িয়ে আছেন। ভিড় কম থাকায় বরফের রাজ্যে ঘুরে বেড়ানোর এটাই সেরা সময়।
২. স্পিতি উপত্যকা, হিমাচল প্রদেশ: অ্যাডভেঞ্চার যাঁদের রক্তে, তাঁদের জন্য স্পিতি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। হিমাচলের এই শীতল মরুভূমি মার্চ মাসেও হিমাঙ্কের অনেক নিচে থাকে। কাজা, কিব্বর বা হিক্কিমের গ্রামগুলো তখন বরফে ঢাকা পড়ে যায়। নীল আকাশের নিচে জমাট বাঁধা স্পিতি নদী আর বৌদ্ধ মঠের নিস্তব্ধতা এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার জন্ম দেবে। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে দেখা মিলতে পারে তুষার চিতারও।
৩. আউলি, উত্তরাখণ্ড: গাড়োয়াল হিমালয়ের এই স্কি রিসর্টটি যেন ভারতের সুইজারল্যান্ড। নন্দাদেবী শৃঙ্গকে সামনে রেখে ঢালু পাহাড়ে স্কি করার আনন্দই আলাদা। যোশীমঠ থেকে রোপওয়েতে চেপে আউলি যাওয়ার পথটি রোমাঞ্চকর। এখানে পর্যটন পরিকাঠামো বেশ উন্নত। তাই পরিবারের সাথে বরফ দেখতে যাওয়ার জন্য এটি একদম উপযুক্ত।
৪. ইয়ুমথাং উপত্যকা, উত্তর সিকিম: সিকিমের এই উপত্যকা মূলত রডোডেনড্রনের জন্য বিখ্যাত হলেও মার্চে এখানে শুধুই বরফ। লাচুং থেকে ইয়ুমথাং যাওয়ার পথে তিস্তার অর্ধেক জমে যাওয়া রূপ মন কেড়ে নেয়। আরও কিছুটা এগিয়ে ‘জিরো পয়েন্ট’ বা ইয়ুমেসামডং-এ গেলে মাইলের পর মাইল শুধু বরফ আর পাথরের লুকোচুরি চোখে পড়বে।
৫. মানালি ও সোলাং ভ্যালি, হিমাচল প্রদেশ: মানালি চিরকালই পর্যটকদের প্রিয়। মার্চ মাসে মানালি শহর থেকে একটু দূরে সোলাং ভ্যালিতে গেলে অঢেল বরফ পাওয়া যায়। অটল টানেল পেরিয়ে সিসু-র দিকে গেলে দেখা মিলবে তুষারশুভ্র নিসর্গের। যারা খুব বেশি দুর্গম পথে যেতে চান না, তাঁদের জন্য মানালিই সেরা বিকল্প।
গরমের হাত থেকে সাময়িক মুক্তি চাইলে মার্চের শেষেই প্ল্যান করে ফেলুন পাহাড়যাত্রার। বরফ, নীল আকাশ আর নীরবতার মাঝে কয়েকটা দিন কাটালে দাবদাহের ভয় অনেকটাই উধাও হয়ে যাবে।
