
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুরে তিনি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে যান বলে সূত্রের খবর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহা। ওই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। দিল্লিতে দলীয় ভাঙনের চর্চার মধ্যেই এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বরাবরের দক্ষ সংগঠক ফিরহাদ হাকিম। পথেঘাটে নেমে তৃণমূলনেত্রীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে গিয়েছেন। ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলে ভরাডুবির মাঝে নিজে জনসমর্থন পেয়ে বিধায়ক হয়েছেন। তবে তা সত্ত্বেও আর পাঁচজন ‘বিদ্রোহী’র মতো সুর চড়াতে দেখা যায়নি ফিরহাদকে। পরিবর্তে ‘দিদি’র ডাকে বারবার তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে বৈঠকে গিয়েছেন। গত শুক্রবার মেয়র পদ ছেড়েছেন। দীর্ঘ ৮ বছর পর মেয়র পদ ছাড়ার পর সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই তৃণমূল সুপ্রিমোকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন তাঁর অবস্থা এখন “ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দারের” মতো। আর সে কারণেই সাধারণ মানুষের স্বার্থে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। সেদিন বিকালে মমতার কালীঘাটের বাড়ির বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
মাত্র তিনদিনের মাথায় সেই ফিরহাদ হাকিমেরও ‘ভোলবদল’? সোমবার দুপুরে ব্যক্তিগত গাড়ি চড়ে বিধানসভায় পৌঁছন তিনি। সন্দীপন সাহার সঙ্গে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর ঘরে যান। আর তাতেই জল্পনা দানা বেঁধেছে, দুঃসময়ে কি ‘দিদি’র হাত ছাড়লেন সঙ্গী ববিও? এর আগে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকেও যোগ দেন বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। শোনা যায়, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নাকি কথাও হয়। মুখ্যমন্ত্রী নাকি তাঁকে চা খাওয়ার কথাও বলেন। তারপর থেকেই ফিরহাদ এবং মমতার নাকি কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই দূরত্বের জেরে কী ঋতব্রতর সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্ব ফিরহাদের, স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা দানা বাঁধছে। এদিকে, এই মুহূর্তে ঋতব্রতদের শিবিরে রয়েছেন ৫৮ জন বিধায়ক। তবে কি ‘আসল তৃণমূলে’র ক্ষমতা বৃদ্ধি স্রেফ সময়ের অপেক্ষামাত্র, চলছে জোর চর্চা।
