
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: আসানসোল পুরনিগমের সেন্ট্রাল স্টোরে পরিদর্শনে গিয়ে মজুত থাকা সাফাই সরঞ্জাম ও ময়লা ফেলার গাড়ি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অভিযোগ, কোটি কোটি টাকার সরঞ্জাম পড়ে নষ্ট হলেও নতুন করে বারবার টেন্ডার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি ১৫ বছরের প্রশাসনিক কার্যপ্রণালীর স্বচ্ছতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।সরকারি টাকায় কেনা সামগ্রী। দিনের পর দিন গোডাউনে পচছে! আসানসোল পুরনিগমের কালিপাহাড়ি কেন্দ্রীয় স্টোরে ঢুকতেই বেনজির দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসে। মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পে কেনা কোটি কোটি টাকার আধুনিক সাফাই গাড়ি ও সরঞ্জাম বছরের পর বছর ধরে ব্যবহার না হয়ে সেখানে পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। শুক্রবার এই স্টোরে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
স্টোর ঘুরে মন্ত্রী দেখেন, রাস্তা পরিষ্কারের বড় বড় স্প্রিংক্লার গাড়ি, ময়লা তোলার গাড়ি, বর্জ্য বহনের সাইকেল ভ্যান এবং হাজার হাজার ডাস্টবিন খোলা আকাশের নিচে ঝোপঝাড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এমনকি বহু নতুন গাড়ির এখনও নম্বর প্লেট বা রেজিস্ট্রেশন পর্যন্ত করানো হয়নি। আধিকারিকরা বিএস-৩ ইঞ্জিন সংক্রান্ত নিয়মের দোহাই দিলেও, কেন বছরের পর বছর বারবার টেন্ডার ডেকে মাল কিনে এভাবে ফেলে রাখা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। সাফাইকর্মীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও তৎকালীন শাসকের উদাসীনতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তিনি বলেন, “স্টোরে প্রায় দুই হাজার জোড়া গামবুট বা সুরক্ষামূলক জুতো মজুত থাকা সত্ত্বেও, পুরনিগমের সাফাইকর্মীদের কোনো গ্লাভস, জুতো বা বর্ষাতি ছাড়াই খালি পায়ে কিংবা সাধারণ চটি পরে নর্দমার আবর্জনা পরিষ্কার করতে হচ্ছে।” এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, “সুরক্ষার সামগ্রী কর্মীদের না দিয়ে কি কাউন্সিলাররা বর্ষাকালে পরবেন বলে রেখে দেওয়া হয়েছিল?”
এই চরম অব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্টোরের সমস্ত সামগ্রীর বিস্তারিত তালিকা এবং তা দ্রুত বিতরণের পরিকল্পনা চেয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন। একই সঙ্গে নথির বাইরে কত টাকার সামগ্রী কেনা হয়েছিল এবং কেন তা মানুষের কাজে লাগেনি, তার পেছনে বড় কোনো আর্থিক গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি বৃহত্তর তদন্তের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
