
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রোজগার মেলার মঞ্চ থেকে রাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে শিল্পের অভাবের কারণে রাজ্যে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি। শিল্প না আসায় গড়ে ওঠেনি অনুসারী শিল্পও, পাশাপাশি অবহেলিত থেকেছে এমএসএমই ক্ষেত্র। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলায় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আম, আনারস থেকে শুরু করে ফুল চাষ— রাজ্যের নিজস্ব সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব। তাঁর দাবি, বাংলার মতো দক্ষ মানবসম্পদ দেশের অন্য কোথাও নেই। তাই এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।
তৃণমূল জমানায় মুখ ফিরিয়েছিল লগ্নিকারীরা। শিল্পে লগ্নি হয়নি। গোটা ভারতে বিশ্বকর্মা যোজনা চালু হলেও, পশ্চিমবঙ্গ এতদিন তাতে অংশ নেয়নি। এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পোর্টালে ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন পড়েছিল। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই সব আবেদন পাঠিয়ে দিয়েছে। রোজগার মেলা থেকে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা নয়, হাই স্কিল, সেমি স্কিলেরও উন্নতির উপরও নজর দিচ্ছে সরকার। এর জন্য রাজ্যে আরও বেশি করে কারিগরি প্রতিষ্ঠান তৈরি হবে। কারণ পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে দিয়ে সব জায়গায় চাহিদা পূরণ হয় না। তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষিত, শিক্ষিত করতে পারলে রাজ্যের আরও উন্নতি হবে।
রাজ্যের পলিটেকনিক কেন্দ্রগুলিরও দক্ষতা বাড়ানো হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রাইভেট ক্ষেত্রগুলির বাণিজ্যিকীকরণ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নাও, সার্টিফিকেট নিয়ে বাড়ি যাও পলিসিতে চলে। কিন্তু এবার আর এসব হবে না। সরকারি ক্ষেত্রের পাশাপাশি একাগ্রতা, দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতার সঙ্গেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিও চালাতে হবে। তার জন্য সাহায্য করবে সরকার। তরুণ প্রজন্মকে ‘বিকশিত ভারতের নেতা’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “স্কুল সার্ভিস কমিশন, কলেজ সার্ভিস কমিশন-সহ সব জায়গা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করব। ইউপিএসসিকে ফলো করব। প্রধানমন্ত্রীর রোজগার মেলা ও এমপ্লয়মেন্ট সিস্টেমকে ফলো করব।”
