
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গত সরকারের আমলে আয়ুষ্মান, আবাসের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির মতো পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা থেকেও বঞ্চিত ছিল পশ্চিমবঙ্গ। তবে ডবল ইঞ্জিন সরকারের জমানায় সে গণ্ডী পেরিয়ে এবার বিশ্বকর্মা যোজনা প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবে এরাজ্যের বিশ্বকর্মারা। লোহা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক থেকে কাঠের মিস্ত্রি, মূর্তিকার। এমনকী মালাকার, ক্ষৌরকাররাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। মোদির জন্মদিনের সন্ধেয় ধনধান্য অডিটোরিয়াম থেকে রাজ্যের বিশ্বকর্মাদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
বাংলায় এই প্রকল্প কার্যকর করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয় চলতি বছরের মে মাসে। ১৪ মে রাজ্য সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রকল্প পরিচালনার জন্য রাজ্য পর্যায়ে নজরদারি কমিটি এবং জেলাভিত্তিক বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। এরপর উপযুক্ত উপভোক্তা বাছাই, যাচাই এবং নথিভুক্তির কাজ বিভিন্ন ধাপে এগিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে রাজ্যে। পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার আনুষ্ঠানিক সূচনা করে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, “কাঠমিস্ত্রি, দর্জি, মূর্তিকার, মাছ ধরার বোট, জাল তৈরির কারিগররাও এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারবেন।” এর পাশাপাশি তিনি আরও জানিয়েছেন, “নরসুন্দর, মালাকার, ঝিনুক শিল্পী, মাটির কাজ, কাঠ-জুটের পুতুল যাঁরা তৈরি করেন, তাঁরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।” রাজ্যের বিশ্বকর্মাদের হাতে-নৈপুনতার প্রশংসা করে শুভেন্দু বলেন,”হাতের কাজ করার স্কিল থাকতে হয়, এর জন্য অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট লাগে না। বংশপরম্পরাকে রক্ষা করার জন্য গোটা ভারত সুবিধা নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মতো তামিলনাড়ুও পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার সুবিধা নেয়নি। পাবলিক ওদের চিহ্নিত করেছে। প্রকৃত বিশ্বকর্মারাই তাদের বদলে দিয়েছে।”
পিএম বিশ্বকর্মা যোজনায় পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে এদিন বিগত সরকারকে দুষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাইরের রাজ্যে থাকতে হচ্ছে এরাজ্যে বিশ্বকর্মাদের। আগের সরকার জেলাশাসকদের বলে দিয়েছিলেন বিশ্বকর্মা যোজনার কাজ করবেন না। শুধু বিশ্বকর্মা নয়, বিগত দিনে ভারত সরকারের কোনও স্কিম এই রাজ্যে চালু করতে দেওয়া হয়নি।” বাংলায় এই প্রকল্প কার্যকর করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয় চলতি বছরের মে মাসে। ১৪ মে রাজ্য সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রকল্প পরিচালনার জন্য রাজ্য পর্যায়ে নজরদারি কমিটি এবং জেলাভিত্তিক বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। এরপর উপযুক্ত উপভোক্তা বাছাই, যাচাই এবং নথিভুক্তির কাজ বিভিন্ন ধাপে এগিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে রাজ্যে। বিশ্বকর্মা যোজনার আওতায় প্রকল্পে সরকারি ট্রেনিং টিম, ট্রেনি ভাতা, টুলস সরবরাহ সহ ব্যাঙ্ক থেকে কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করবে সরকার। যার গ্যারান্টার হবেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশ্বকর্মা পুজোর আগের সন্ধেয় এরাজ্যের পরিযায়ী বিশ্বকর্মাদেরও ঘরে ফেরানোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এও জানান, আগামী ২০২৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে খোলা মাঠে অন্তত পাঁচ লক্ষ সুবিধাভোগীকে নিয়ে উদ্যাপিত হবে বিশ্বকর্মা দিবস।
