West Bengal

1 hour ago

Kunal Ghosh : ‘ক্যামেরার সামনে ঘুষ, তবু বাইরে কেন কাকলি?’ বারাসত থানা থেকে বেরিয়ে কড়া বার্তা কুণালের

Kunal Ghosh on Kakoli Ghosh Dastidar
Kunal Ghosh on Kakoli Ghosh Dastidar

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  ক্যামেরার সামনে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বিরুদ্ধে। সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তুললেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও কী ভাবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার এখনও জেলের বাইরে রয়েছেন? বৃহস্পতিবার দুপুরে বারাসত থানায় হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন কুণাল। সেখান থেকে বেরিয়ে কাকলিকে নিশানা করে একের পর এক অভিযোগ তোলেন তিনি। এ দিন নারদকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে আনেন কুণাল। ওই ঘটনায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে চিঠি দেওয়ার কথা ভাবছেন। কাকলির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের দাবিতেই এই পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন কুণাল। 

সমাজমাধ্যমে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে অপমান, হেনস্থার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন কাকলি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে বারাসত থানায় এফআইআর দায়ের হয়। কুণালকে সাত দিনের মধ্যে হাজিরা দিতে বলেছিল পুলিশ। তিনি সমনের চিঠি পাওয়ার পরের দিনই থানায় যান। বেলা দেড়টা নাগাদ একগুচ্ছ নথিপত্র হাতে নিয়ে বারাসত থানায় পৌঁছোন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। কুণাল জানান, সমাজমাধ্যমে কে কার পোস্টে কী কটূক্তি করছেন, তার দায় তিনি নেবেন না। এ ভাবে পুলিশের সময় নষ্ট করা হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি। কাকলিদের অভিযোগ ছিল, কালীঘাট তৃণমূল নিয়ন্ত্রিত আইটি সেল সমাজমাধ্যমে তাঁদের হেনস্থা করছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে ‘নাম’ জমা দিয়ে এসেছিলেন তিনি। পরে জানা যায়, তাঁর অভিযোগের তির ছিল কুণালের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, কুণালের নেতৃত্বে সমাজমাধ্যমে তাঁদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বেলেঘাটার বিধায়কের জবাব, ‘‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারও পোস্টে কটূক্তি করা হলে সেটা তাঁর সমস্যা। আমি কেন তার দায় নিতে যাব? আমার পোস্টেও তো কত জন কত রকম সমালোচনা করেন। আমার নেতৃত্বে গোটা রাজ্যে সমাজমাধ্যম জুড়ে এটা হবে, এত বড় সংগঠক আমি নই। এ ভাবে পুলিশের সময় নষ্ট হচ্ছে।’’ এর পরেই নারদ প্রসঙ্গ টেনে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘ক্যামেরার সামনে ঘুষ নেওয়া কাকলি এখনও বাইরে কেন? সিবিআইকে এ বার আমি সেই চিঠি দেব।’’ 

কুণাল জানান, বারাসত থানার তদন্তকারী আধিকারিক তাঁকে তাঁর একটি পোস্টের ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন করেন। ওই পোস্টে তিনি কারও নাম বা পরিচয় উল্লেখ করেননি। তার ভিত্তিতে কী করে পুলিশ কাউকে তলব করে হেনস্থা করতে পারে, প্রশ্ন তোলেন বিধায়ক। তাঁর কথায়, ‘‘আমার একটা পোস্ট দেখিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। সেখানে আমি একটি ছবি ব্যবহার করেছিলাম। ভিন্‌গ্রহের প্রাণী, খানিকটা শুয়োরের মতো দেখতে। তাতে আমি কারও নাম লিখিনি। অভিযোগকারী কী ভাবে ওই ছবি দেখিয়ে দাবি করতে পারেন, তাঁর মানহানি হয়েছে?’’ থানায় সংসদের শব্দকোষ, অভিধান নিয়ে গিয়েছিলেন কুণাল। দাবি, কোথাও কোনও অসংসদীয় শব্দ তিনি ব্যবহার করেননি। দলবদলু-সহ একাধিক শব্দ ব্যবহার প্রসঙ্গে তাঁর জবাব, ‘‘আমি সাংবাদিক এবং লেখক। মাঝেমাঝে উপন্যাসের প্লট সমাজমাধ্যমে এমন হেঁয়ালির মাধ্যমে ছাড়ি।’’

কাকলিদের বিরুদ্ধে এর পর সুর আরও চড়ান কুণাল। বলেন, ‘‘এই সমস্ত বেইমান এবং গদ্দারের আশ্রয়স্থল এখন নবান্ন। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। তাঁরা বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে আমার নামে অভিযোগ করাচ্ছেন।’’ এসএসকেএম হাসপাতালের নাম কাজে লাগিয়ে নিজেদের বাণিজ্যিক প্রয়োজনে সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন কুণাল। তাঁর কথায়, ‘‘এসএসকেএম হাসপাতালে যাব আমি। এমন কোনও ক্লিনিক কোনও কোনও ডাক্তারের আছে কি না দেখতে, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সুযোগ নিয়ে সরকারি কাঠামো তাঁদের বাণিজ্যিক রেটে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটার তদন্ত হওয়া দরকার।’’

You might also like!