
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে আরও চওড়া হল বামঐক্যের ফাটল। উপনির্বাচনে আগেই পৃথকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল সিপিএম এবং আরএসপি। এবার সেই বিভাজন আরও স্পষ্ট হল মনোনয়ন পর্বে। মঙ্গলবার দুই দলের প্রার্থীই পৃথকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে বিজেপি এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি রেজিনগরে বামেদের দুই প্রার্থীই কি এবার একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবেন, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বামেদের এই বিভাজন শেষ পর্যন্ত ভোটের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেই প্রশ্নও উঠছে। আগামী ৬ তারিখ রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম, দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে রেজিনগরে বামেদের এই পৃথক লড়াই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রেজিনগরে সিপিআইএমের প্রার্থী পেশায় আইনজীবী সাঈদ আসাদ আলি। অন্যদিকে, আরএসপি-র প্রার্থী বিকাশচন্দ্র মিশ্র। এদিন বহরমপুর জেলাশাসক ভবনে দুই প্রার্থীই পৃথকভাবে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিলেন। জোটসঙ্গীকে যে কোনওভাবেই জায়গা ছেড়ে দিতে রাজি নয়, সেকথা আরও একবার পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন আরএসপি প্রার্থী বিকাশচন্দ্র মিশ্র। তিনি জানিয়েছেন, রেজিনগরে বামপন্থী আন্দোলনের একটি পুরনো ইতিহাস আছে। আরএসপি-র ভোটব্যাঙ্কও বেশি। দীর্ঘদিন ধরে ওই কেন্দ্রে আরএসপিই ভোটে লড়াই করে আসছে।
সিপিএমের সঙ্গে কি তাহলে এবার আরএসপির লড়াই? সেই বিষয়ে সরাসরি কোনও কথা বলতে চাননি প্রার্থী বিকাশচন্দ্র মিশ্র। তবে নাম না করে তাঁর খোঁচা, “ফ্যাসিবাদের মতো একটা শক্তি যখন গোটা দেশ ও রাজ্যে থাবা বসিয়েছে, সেসময় বামপন্থীদের ঐক্য আরও মজবুত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেখানে যদি আধিপত্যবাদী মানসিকতা তৈরি হয়, সেটা দুর্ভাগ্যজনক।” তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রকৃত বামপন্থার কথা বলে, প্রকৃত ভূমি আন্দোলনের কথা বলে রেজিনগরের মানুষকে সুসংগঠিত করব। কারণ, দলবদলের রাজনীতির মধ্যে দিয়ে বামপন্থার পুনরুত্থান হতে পারে না।”
যদিও সিপিএম প্রার্থী সাঈদ আসাদ আলি এই বিতর্কে কোনও কথা বলতে চাননি। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য নেতৃত্ব এই বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এই কেন্দ্রে সিপিএমের সঙ্গে লড়াই বিজেপির। বিজেপির বিরুদ্ধেই রেজিনগরে লড়াই হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। কিন্তু এই কেন্দ্র নিয়ে বামেদের মধ্যে এত বিবাদ কেন? জানা গিয়েছে, বরাবর রেজিনগর কেন্দ্রে আরএসপি প্রার্থী দেয়। ওই এলাকা আরএসপির শক্ত ঘাঁটি। গত বিধানসভা নির্বাচনে বামেরা কংগ্রেসকে ওই আসন ছেড়েছিল। কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে এখন কোনও জোট নেই। উপনির্বাচনে আরএসপি ওই কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে, এমনটাই নিশ্চিত ছিলেন দলের নেতা-কর্মীরা। অভিযোগ, আলোচনা না করেই সিপিএম ওই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করে দেয়। সেজন্য আরএসপিও পৃথকভাবে ওই কেন্দ্রে এবার লড়ছে।
