kolkata

55 minutes ago

Suvendu Adhikari: ধুলিয়ান কাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স’! সিআইডির হাতে তদন্ত, সুজিতের স্ত্রীকে চাকরির প্রতিশ্রুতি

CM Suvendu Adhikari
CM Suvendu Adhikari

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  ধুলিয়ানে সুজিত মণ্ডল খুনের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনার পর একগুচ্ছ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ঘটনাটি আলাদা হলেও তাঁর হরগোবিন্দ দাসের ঘটনার কথা মনে পড়ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই কারণেই তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির হাতে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপই নয়, মৃত সুজিত মণ্ডলের পরিবারের পাশেও দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মৃতের স্ত্রী রাজি থাকলে তাঁকে হোম গার্ডের চাকরি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। 

গত ২৮ আগস্ট বাড়ি থেকে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান সুজিত মণ্ডল। ঘটনার প্রায় সাতদিন পর ফরাক্কার বল্লালপুর ফিডার ক্যানেল ঘাট থেকে সুজিত মণ্ডলের খন্ড-বিখন্ড দেহাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, মৃত সুজিত মণ্ডল বিজেপির সমর্থক ছিলেন। স্বভাবতই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ফরাক্কা-সামশেরগঞ্জ জুড়ে। পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলে পরিবার। অভিযোগ, ঘটনার পর স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানানোর পরেও এই বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। আর সেই ঘটনায় এবার সামসেরগঞ্জের এসডিপিও–সহ একাধিক পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে এদিন কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, ”ধুলিয়ানে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। সেখানে সুজিত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি মিসিং হয়ে যান ২৮ আগস্ট। এরপর খন্ড খন্ড অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। অনেকটাই হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাসের মতো। পশু কাঁটার অস্ত্র দিয়ে এই কাজ করা হয়।” ইতিমধ্যে এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ধৃতদের নাম সামিরুল শেখ, তাজফেরা বিবি এবং জনি শেখ। এরাই মূল অভিযুক্ত। ধৃতদের আদালতে তুলে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ”এই ঘটনা খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। লোকাল পুলিশ সাহায্য করেনি। তদন্তভার সিআইডিকে তুলে দেওয়া হচ্ছে।” পাশাপাশি একগুচ্ছ পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকের শাস্তির ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ”ডিজিপি এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে বেশ কিছু অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে। এএসআই সুমন্ত কুমার দাস (ইনচার্জ ধুলিয়ান ডিওপি), এসআই সফিউল আলম (সামশেরগঞ্জ পুলিশ স্টেশন) সাসপেন্ডেড। সামশেরগঞ্জের আইসি সুব্রত ঘোষকে লাইনে ক্লোজ করা হচ্ছে। আজকেই নতুন আইসির নাম ঘোষণা করা হবে।” একইসঙ্গে এসডিপিও ফরাক্কা শেখ সামসুদ্দিনকে শাস্তিমূলক ট্রান্সফার করা হয়েছে। এসপি জঙ্গিপুর সুরিন্দর সিংকেও সতর্ক করা হয়েছে বলেও এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।


You might also like!