
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে পালিত হয় পবিত্র গণেশ চতুর্থী। এই বিশেষ দিনে বাড়ি কিংবা পুজোমণ্ডপে ভগবান গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে বিধি মেনে পুজো করার প্রচলন রয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশ হলেন ‘বিঘ্নহর্তা’—অর্থাৎ যিনি জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি দূর করেন। তাই কোনও শুভ কাজ বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সূচনায় প্রথমেই গণেশের পুজো করার রীতি প্রচলিত। শাস্ত্রীয় বিশ্বাসে, গণেশের আরাধনা করলে কাজে সাফল্য আসে এবং জীবনের বাধা দূর হয়। সেই কারণেই শুভকাজের আগে গণপতির পুজোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী কবে?
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার। চতুর্থী তিথি শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান গণেশের জন্ম দুপুরবেলায় হয়েছিল। তাই গণেশ চতুর্থী পালনের ক্ষেত্রে জন্মতিথির সময়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই হিসেবে ১৪ সেপ্টেম্বরই গণেশ চতুর্থী পালন করা হবে।
কীভাবে গণেশ প্রতিষ্ঠা করবেন?
গণেশ পুজোর আগে পুজোর স্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। এরপর সেখানে একটি পরিষ্কার লাল কাপড় বিছিয়ে তার উপর ভগবান গণেশের মূর্তি স্থাপন করুন। এরপর ভক্তিভরে গণেশকে স্মরণ করে পুজো শুরু করুন। প্রথমে গণেশের কপালে সিঁদুরের তিলক লাগান। তারপর তাঁকে দূর্বা, ফুল ও অক্ষত চাল অর্পণ করুন। গণেশের বিভিন্ন মন্ত্র জপ করে ভক্তিভরে পুজো করুন। পুজো শেষে গণেশের আরতি করুন এবং তাঁর মাহাত্ম্য সংক্রান্ত কাহিনি বা কথা শুনতে পারেন। সবশেষে ভগবান গণেশকে ভোগ নিবেদন করুন। গণেশ পুজোয় মোদক নিবেদন করা বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। গণেশের প্রিয় ভোগ হিসেবে মোদকের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
গণেশকে দূর্বা কেন অর্পণ করা হয়?
গণেশ পুজোয় দূর্বার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দূর্বা ভগবান গণেশের অত্যন্ত প্রিয়। তাই গণেশের পুজোর সময় দূর্বা নিবেদন করা হয়।
সাধারণত কয়েকটি দূর্বা একসঙ্গে নিয়ে ছোট আঁটি তৈরি করে সুতো দিয়ে বেঁধে তা ভক্তিভরে গণেশের চরণে অর্পণ করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, দূর্বা নিবেদন করলে গণেশের আশীর্বাদ লাভ করা যায়।
গণেশ চতুর্থীর দিনে চাঁদ দেখা উচিত নয় কেন?
গণেশ চতুর্থীর সঙ্গে চন্দ্র দর্শনের একটি বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িত। ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে চাঁদ দেখা উচিত নয় বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে চাঁদ দর্শন করলে ব্যক্তিকে মিথ্যা অপবাদ, কলঙ্ক বা অসম্মানের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই গণেশ চতুর্থীর দিনে চন্দ্র দর্শন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
গণেশ চতুর্থীতে কী করবেন না?
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো— চাঁদ দেখা এড়িয়ে চলুন।পুজোর সময় অশান্তি বা অযথা তর্ক-বিতর্ক করবেন না। গণেশ পুজোয় দূর্বা, ফুল, সিঁদুর, অক্ষত ও ভোগ ভক্তিভরে নিবেদন করুন। পুজোর স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। কোনও শুভ কাজের আগে গণেশের পুজো করতে পারেন। পুজোর সময় মন শান্ত রেখে ভক্তিভরে মন্ত্র ও আরতি করুন।
