
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে সরস্বতী পুজো এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। এটি কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং বাঙালির জ্ঞানচর্চা ও শৈল্পিক চেতনার এক উদযাপন। ছোটদের স্লেট-পেন্সিলে হাতেখড়ি থেকে শুরু করে কলেজের ছাত্রছাত্রীদের অঞ্জলি— সরস্বতী পুজো মানেই একরাশ নস্ট্যালজিয়া। মাঘ মাসের এই শুক্লা পঞ্চমী তিথিতেই আমরা আবাহন জানাই জ্ঞান, সংগীত ও প্রজ্ঞার দেবী মা সরস্বতীকে।
সরস্বতী পুজোর মন্ত্র -বন্দনা মন্ত্র: 'নমো জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে। বীণা রঞ্জিত পুস্তক হস্তে,
ভগবতী ভারতী দেবী নমোস্তুতে।।'
ধ্যান মন্ত্র: 'নমো যা কুন্দেন্দু তুষারহারধবলা যা শ্বেতপদ্মাসনা, যা বীণাধর-দণ্ড মণ্ডিতভূজা যা শুভ্রাবস্ত্রাবৃতা। যা ব্রহ্মচ্যুত-শঙ্কর-প্রভৃতিভিদে
সরস্বতী ধ্যান মন্ত্র সরস্বতী পুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র। এই ধ্যান মন্ত্রে দেবীর রূপ, বর্ণ ও গুণের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। কুন্দফুল এবং চন্দ্রের মত শুভ্র বর্ণ, শ্বেতপদ্মাসীনা দেবী, বীণাধারিণী সরস্বতীর ধ্যান করলে মন শান্ত হয় এবং অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর হয় বলে শাস্ত্রকারদের বিশ্বাস। পুজোর সময় এই ধ্যান মন্ত্র পাঠ করলে দেবীর সঙ্গে একাত্ম হওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়।
পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র: 'নমো ভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ। বেদ-বেদান্ত বেদাঙ্গ-বিদ্যাস্থানেভ্যঃ এব চ।'
পুজোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল পুষ্পাঞ্জলি। সরস্বতী পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র পাঠের সময় দেবীর চরণে ফুল অর্পণ করা হয়। এই মন্ত্রের মাধ্যমে বিদ্যা, বেদ, বেদান্ত ও শাস্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠার সঙ্গে এই মন্ত্র পাঠ করলে বিদ্যার পথে সমস্ত বাধা দূর হয় এবং মন জ্ঞানের দিকে আরও আকৃষ্ট হয়।
প্রণাম মন্ত্র: 'নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে। বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যাং দেবী নমোস্তুতে।'
বাঙালি সমাজে সরস্বতী পুজোর সঙ্গে গান, স্তোত্র ও কবিতার এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পুজোর সময় দেবীর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সংগীত পরিবেশন করা হয়, যা পুজোর আবহকে আরও আনন্দময় করে তোলে। এই সমস্ত মন্ত্র ও স্তোত্রের মাধ্যমে দেবীর প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং তাঁর আশীর্বাদ কামনা করা হয়।
