
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মাঘ মাস এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয় সরস্বতী পুজোর প্রস্তুতি। বিদ্যার দেবী বাগদেবীর আরাধনার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে কুল খাওয়ার রীতি। বহু বাঙালি পরিবারে আজও বিশ্বাস করা হয়, সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া নিষিদ্ধ। পলাশপ্রিয়ার পুজোর দিনই প্রথম কুল মুখে তোলা হয়—এ যেন এক প্রাচীন লোকাচার।
এই রীতির পিছনে শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যগত কারণও। সাধারণত মাঘ মাসের শুরুতে কুল পুরোপুরি পাকে না। কাঁচা বা আধাপাকা কুল খেলে হজমের সমস্যা, পেটের গোলমাল কিংবা গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শীতের শেষ দিকে শরীর এমনিতেই সংবেদনশীল থাকে, তখন অপরিপক্ব ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
পুজোর সময় অর্থাৎ মাঘ মাসের মাঝামাঝি নাগাদ কুল সম্পূর্ণ পাকতে শুরু করে। তখন এর স্বাদ যেমন ভালো হয়, তেমনই পুষ্টিগুণও শরীরের পক্ষে উপকারী হয়ে ওঠে। তাই সরস্বতী পুজোর দিন কুল খাওয়ার রীতি গড়ে উঠেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ধর্মীয় আচার ও ঋতুচক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই লোকাচার তৈরি হয়েছে। বিশ্বাস ও বিজ্ঞান—দুইয়ের মেলবন্ধনেই আজও বাঙালির জীবনে সরস্বতী পুজো ও কুল খাওয়ার রীতি সমান গুরুত্ব নিয়ে অটুট আছে।
