
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রতিবেশী দুই দেশের দীর্ঘদিনের তিক্ততা এবার পুরোদস্তুর যুদ্ধের রূপ নিল। কাবুল ও কান্দাহারে পাক বিমানবাহিনীর অতর্কিত হামলার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা—এবার সরাসরি যুদ্ধ হবে আফগানিস্তানের সঙ্গে। ডুরান্ড লাইনকে কেন্দ্র করে চলা সংঘাত এবং জঙ্গি দমন নিয়ে একে অপরের ওপর দোষারোপের পালা শেষ হয়ে এখন তা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই যুদ্ধ কেবল পাকিস্তান বা আফগানিস্তান নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।
শুক্রবার কাবুলে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। আফগান প্রশাসন সূত্রে খবর, গত রবিবার পকিস্তানি হামলার পালটা দিতে বৃহস্পতিবার রাতে পাক সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ করেছে আফগানিস্তান ফৌজ। পাকিস্তানের অন্তত ১২টি পোস্ট আফগানিস্তানের দখলে এসেছে বলেও দাবি তালিবান প্রশাসনের। সেই হামলার পালটা শুক্রবার আফগানিস্তানের একাধিক এলাকায় আক্রমণ করেছে পাকিস্তান। দুপক্ষেই সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এক্স হ্যান্ডেলে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ লেখেন, ‘আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। এবার তোমাদের সঙ্গে সরাসরিভাবে যুদ্ধ হবে।’ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নাম দিয়েছে ইসলামাবাদ। তাদের দাবি, পাক হামলায় ১৩৩ জন আফগান সেনার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের দাবি, ৫৫ জন পাক সেনাকে খতম করেছে তারা। তবে দুই পক্ষের বক্তব্যে সত্য়তা যাচাই করা হয়নি। সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে টানা দু’ঘণ্টা ধরে গুলি এবং যুদ্ধবিমানের আওয়াজ শোনা গিয়েছে কাবুলে। তালিবানের শীর্ষ নেতা হিবাতুল্লা আখুন্দজাদার ‘ডেরা’ কান্দাহারেও হামলা হয়েছে বলে খবর।
যুদ্ধ ঘোষণার পরেই হুঙ্কার দিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “যাবতীয় আগ্রাসন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে পাক ফৌজের। গোটা দেশ সেনার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে।” যুদ্ধ ঘোষণার পরেই পাক সেনার এফ ১৬ ভেঙে পড়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। আফগান প্রশাসনের দাবি, তারাই গুলি করে নামিয়েছে ওই যুদ্ধবিমান। সেই দাবি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
