
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: জাতীয় স্তরে সমমনস্কতা থাকলেও নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক সমীকরণ যে দ্রুত বদলে যেতে পারে, তারই স্পষ্ট উদাহরণ মিলল বাংলার মাটিতে। কিছুদিন আগেও এসআইআর ইস্যুতে ভোটার তালিকা কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর বিরুদ্ধে একযোগে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব এনেছিল কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস।
তবে নির্বাচনী প্রচারে এসে সেই সমীকরণে বদল দেখা গেল। রায়গঞ্জে কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে সভা করতে এসে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে।
আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে বেকার ভাতা, কর্মসংস্থান এবং শিল্পক্ষেত্রের অবনতি—একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের মুখে এই অবস্থান পরিবর্তন বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে রাজ্যের ২৯৪ টি আসনে একা লড়াইয়ের কথা যেদিন ঘোষণা করেছিল কংগ্রেস, সেদিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে তৈরি বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোটে ভাঙনের ভবিষ্যৎ দেখা গিয়েছিল। পরে কলকাতায় দলের ইস্তেহার প্রকাশ করতে এসে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে তৃণমূলকে নিশানা করে নানা মন্তব্য করেন। খাড়গের সেই তৃণমূল-বিরোধিতাকে সোমবার রায়গঞ্জের জনসভায় আরও উসকে দিলেন রাহুল গান্ধী। নারীসুরক্ষা প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ”আর জি করে যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে তৃণমূলের গুন্ডাদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। আর সরকার এ বিষয়ে কোনও দায় নেয়নি। মমতাজি এখানে বেকারদের ভাতা দিচ্ছেন। বলছেন, ৫ লক্ষ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হচ্ছে আর ভাতার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন ৮৪ লক্ষ। মজার কথা!”
