
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দূর করতে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিধাননগর হাসপাতালে জরায়ুমুখ ক্যানসার টিকাকরণ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি জানান, ফর্ম পূরণের জন্য সরকারের প্রতিনিধি প্রত্যেকের বাড়িতে যাবেন।মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এই প্রকল্পের ফর্ম নিয়ে কোনও গুজবে কান দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যাঁরা যোগ্য, তাঁরা সকলেই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অন্নপূর্ণা যোজনায় রাজ্যের মহিলাদের মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। ক্ষমতায় আসার পর শুভেন্দুর সরকার সেই প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশ করেছে। দেখা গিয়েছে, ১১ পাতার দীর্ঘ একটি ফর্ম দেওয়া হয়েছে। তাতে জমির কাগজপত্র থেকে শুরু করে পরিবারের সকলের ব্যাঙ্কের নথি— যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, এই ফর্ম জটিল। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর মতো সহজে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়া যাবে না। এ নিয়ে একাংশের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। তাঁদের উদ্দেশে শুভেন্দু শনিবার বলেন, ‘‘আগামী বুধবার আমরা অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম পর্যায়ের টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্কে পাঠাব। প্রত্যেকের বাড়িতে ফর্ম পূরণের জন্য লোক যাবে। আপনাদের ফর্ম তাঁরাই পূরণ করিয়ে দেবেন। কোনও গুজবে কান দেবেন না।’’ শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘আমরা চাই প্রকৃত প্রাপক টাকা পান। অভারতীয় বা পুরুষ কেউ এই টাকা যাতে না-পান, সেটা আমরা নিশ্চিত করব।’’
ভোটের আগে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের জন্য যে ইস্তাহার বা ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করেছিল, তার অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। শুভেন্দু জানিয়েছেন, সংকল্পপত্রের প্রতিটি প্রতিশ্রুতিবাক্য পালনের দায়িত্ব তাঁর সরকারের। তাই অন্নপূর্ণা যোজনাতেও তার অন্যথা হবে না।
রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের সুবিধা ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা পাবেন। বলা হয়েছে, আয়কর দিলে বা সরকারি চাকরি করলে, নিয়মিত বেতন বা পেনশন পেলে এই প্রকল্পের টাকা পাওয়া যাবে না। তবে প্রকল্পের ফর্মটিতে পরিবারের সকলের খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হয়েছে। জমি সংক্রান্ত তথ্য এবং তার কাগজ ফর্মের সঙ্গে জমা দিতে বলা হয়েছে। অনেকেই ফর্ম সরলীকরণের দাবি জানিয়েছেন। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম নিয়ে ইতিমধ্যে আশ্বস্ত করেছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এ বার শুভেন্দুও সংশয় দূর করার চেষ্টা করলেন।
