
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিয়ে সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক করলেন কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদরা। সংসদীয় দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল স্পিকারের কাছে প্রথমেই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। এক মহিলা সাংসদকে উদ্দেশ করে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তাঁকে চলতি অধিবেশনের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে এই অধিবেশনের বাকি সময়ে তিনি লোকসভার কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়াও প্রতিনিধিদলের দ্বিতীয় দাবি ছিল, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করা হোক। তাঁদের সদস্যপদ বাতিলের আবেদন জানিয়ে স্পিকারের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সাংসদরা।
সংসদে বাদল অধিবেশন চলাকালীন একাধিক বিল পেশ ও পাশ করানোর সঙ্গে আরও একটি বিষয় নজর রয়েছে সকলের। যা জাতীয় রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তা হল, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলকে দুষে একে একে ২০ জন সাংসদের দলত্যাগ এবং ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগদান। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, কলকাতা উত্তরের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ওই সংসদীয় দলটি স্পিকার ওম বিড়লার কাছে দফায় দফায় দাবি করেছেন, তাঁদের আলাদা দলের মর্যাদা দিয়ে আসন ও ঘর দেওয়ার জন্য। যদিও সেই প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। শুধুমাত্র এনসিপিআই সাংসদদের জন্য লোকসভা অধিবেশন কক্ষে আলাদা আসন বরাদ্দ করেছেন স্পিকার। চলতি অধিবেশনে এনসিপিআই আলাদা দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে নাকি বিজেপিকে মিশে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত হতে পারে মঙ্গলবার, দিল্লির বৈঠকে।
এই পরিস্থিতিতে কালীঘাট তৃণমূলের তরফে সোমবারই স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় দল। তাঁদের আবেদন, তৃণমূলত্যাগী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজ করতে যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ করুন। এনিয়ে যদিও স্পিকারের বিশেষ সায় তাঁরা পাননি বলেই খবর। অন্যদিকে, তাঁদের আরও এক জোরালো দাবি, সংসদীয় দলের মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন প্রত্যাহার করে তাঁকে অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হোক। এবিষয়েও স্পিকার তাঁদের আশা দিয়েছেন বলে কোনও খবর নেই। রাজনৈতিক মহলের মত, আজ স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে এনসিপিআইকে আসলে কিছুটা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা।
