
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: এক সময় বীরভূমে তৃণমূলের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। সেই অনুব্রতকেই এবার জামার কলার ধরে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তাঁর সামনেই পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। এক সময় বীরভূম জুড়ে তাঁর একচ্ছত্র প্রভাব ছিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। তৃণমূলের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ ও বিতর্কের জেরেই মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপি নেতা তথা পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “রাজনীতি এরকমই। কেউ কখনও উপরে, আবার কেউ কখনও নিচে। কেউ ক্ষমতা পেলে তার সঠিক ব্যবহার করতে হয়। তৃণমূল আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। মানুষ কষ্ট পেয়েছে। যেমন করবে, তেমনই ফল পাবে।” তবে একই সঙ্গে মারধর বা হিংসার মাধ্যমে কোনও প্রতিশোধ নেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেছেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, মানুষের ক্ষোভ বিভিন্ন ভাবে প্রকাশ্যে আসে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।
বুধবার রাতে সিউড়ির পুরনো বাস স্যান্ডের তৃণমূলের পার্টি অফিসে যান ঋত শিবিরের নেতা অনুব্রত মণ্ডল। সেই সময় ৩ যুবক মোটা কাঠ, লাঠি নিয়ে পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালায়। তাঁরা জানিয়েছেন কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত নয়। তবে পুলিশ তাঁদের নিয়ে যাওয়ার সময় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়েছিলেন। সেই বিষয়ে বৃহস্পতিবার দিলীপ বলেন, “জয় শ্রীরাম বিজেপির স্লোগান নয়। ভারতের প্রতিটি মানুষ জয় শ্রীরাম বলতেই পারে। কারা করেছে তা প্রশাসন বলতে পারবে। আমার মনে হয় না কেষ্টর মারাত্মক কোনও আঘাত লেগেছে। তবে এটা ঠিক, ওর (কেষ্টর) যা পাওনা ছিল কাল ওরা অনেকটা মিটিয়ে দিয়েছে।” গতকালের ঘটনায় অনুব্রতের কোনও বড় আঘাত না লাগলেও মুখে সামন্য আঘাত লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ৩ যুবককে আটক করেছিল। পরে তাঁরা বৃহস্পতি সকালে মুক্তি পান। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমি ১০ বছর বীরভূমে কোনও সভা করতে পারিনি। পুলিশ অনুমতি দিত না। একবার ভুল করে অনুমতি দিয়ে দিয়েছিল। সেই বার অন্য জায়গায় জল পাম্প করে সভার মাঠে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় এসেছি। বীরভূমে সবথেকে বেশি ভোট পেয়েছি। মানুষ তো রাতারাতি সব ভুলে যাবে না। তবে আমাদের শান্তি বজায় রেখে বাংলার উন্নতি করতে হবে।”
উল্লেখ্য, বুধবার ভোটের ফল প্রকাশের পর প্রথমবার সিউড়ির পার্টি অফিসে যান অনুব্রত। সিউড়ি পুরাতন বাস স্ট্যান্ডের কাছে তৃণমূলের পার্টি অফিসে যান তিনি। মূলত অবস্থা খতিয়ে দেখে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলাই ছিল মূল বিষয়। সেই সময় আচমকা তিন যুবক মোটা গাছের ডাল, লাঠি হাতে পার্টি অফিসের ভিতরে ঢুকে আসেন। অনুব্রতের সামনেই ভাঙচুর করতে থাকেন। এসি থেকে কাচের জানলা, টেবিল, চেয়ারে ভাঙচুর চালায় তাঁরা। অনুব্রত মণ্ডলের সামনে থাকা কাচের টেবিলেও ভাঙচুর চালায় ৩ জন যুবক। অনুব্রতকে মারধর করা না হলেও, তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরই ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। অনুব্রত পুলিশি নিরাপত্তা চাওয়ায় পুলিশ ভ্যান তাঁকে এসকর্ট করে বোলপুরের দিকে নিয়ে যায়। এ দিকে ঘটনায় অনুব্রত কোনও মামলা দায়ের না করায়, বৃহস্পতি সকালে ৩ যুবককে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ।
