
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সদস্যপদ নিয়ে জটিলতার কারণে বিষয়টি এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এর মধ্যেই জাতীয় কমিটি গঠন করল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই। প্রকাশিত সেই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন তৃণমূলের সাতজন বিদ্রোহী সাংসদ। তবে তালিকায় উল্লেখযোগ্য ভাবে নাম নেই তৃণমূলের দুই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের। একই ভাবে বাদ পড়েছে শতাব্দী রায়ের নামও। এনসিপিআইয়ের জাতীয় কমিটির তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তৃণমূলের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদের নাম থাকলেও সুদীপ, কাকলি এবং শতাব্দীর নাম না থাকা ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। সদস্যপদ সংক্রান্ত মামলার মধ্যে এই তালিকা প্রকাশকে ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর।
এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদের সাংসদ পদ কেন বাতিল হবে না। এই প্রশ্নের জবাব দিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আরও খানিকটা সময় চেয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। আরও চার সপ্তাহ চেয়ে লোকসভার সচিবালয়ে চিঠি দিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। যা নিয়ে শুরু হয়েছে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। শুরু তাই নয়, সংসদে এখনও এনসিপিআইকে আলাদা দল হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যদিও এনডিএকে সমর্থন করেছেন এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া সাংসদরা। এরমধ্যেই জাতীয় কমিটি ঘোষণা করা হল। যেখানে সহ-সভাপতি হিসাবে নাম রয়েছে আবু তাহের খান, দেব, ইউসুফ পাঠান, জগদীশ বাসুনিয়া, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নাম রয়েছে মিতালি বাগ এবং বাপি হালদারের।
অন্যদিকে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে দলের সভাপতি হিসাবে নাম রয়েছে জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়ের। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে নয়া এই কমিটিতে জায়গা পাননি কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শতাব্দী রায়। বিশেষ করে রাজ্যে পালাবদলের পরেই তৃণমূল ভেঙে খান-খান হয়ে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ‘আসল’ তৃণমূলের ঘোষণা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী দলের সাংসদরাও একে একে দলনেত্রীর সঙ্গ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। দফায় দফায় দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর যোগ দেন এনসিপিআইতে। দলের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। গত কয়েকমাসে তাঁদের একাধিকবার কখনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আবার কখনও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে তাঁদের। পৃথক দলের স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন। সেই সুদীপ এবং কাকলি কেউ ঠাই পেলেন না নয়া কমিটিতে?
যদি এক্ষেত্রে এনসিপিআই সভাপতি জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, এই দলের নিয়ম রয়েছে এক ব্যক্তি, এক পদ। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা সংসদীয় কমিটিতে রয়েছে। দলের নেতা, মুখ্য সচেতক হিসাবে রয়েছেন। তবে জাতীয় বর্ধিত কমিটিতে তাঁরা থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। তবে এই বিষয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ”বিজেপি এদের যতই মদত দিক, রাজনৈতিক কেরিয়ার একেবারে শেষ।” এমনকী গদ্দার বলেও তোপ দাগেন বিধায়ক। তাঁর কথায়, মানুষ এঁদের বিশ্বাস করেননা।
