
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিহারে কিশোরীকে শ্লীলতাহানি ও হেনস্তার ঘটনায় সমাজমাধ্যমে সক্রিয় ১২০টি অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। পুলিশের দাবি, ওই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে নির্যাতিতার পরিচয় ও ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এরপরই সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং কী ভাবে ওই ভিডিয়ো ও পরিচয় ছড়ানো হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে বিহার পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্ত নাবালক-নাবালিকাদের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়ানো, তাদের মর্যাদাহানি এবং পরিচয় প্রকাশ করা পকসো আইন, আইটি আইন এবং জুভেনাইল জাস্টিসের আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে এক পুলিশ কর্তা সতর্ক করে বলেন, “পকসো আইনের ২৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, আক্রান্ত কোনও নাবালক-নাবালিকাদের পরিচয় প্রকাশ নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। হতে পারে জরিমানাও। আবার দু’টোই হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “সমাজমাধ্যমে আক্রান্ত কিশোর-কিশোরীর ছবি, নাম বা এমন কোনও তথ্য পোস্ট করবেন না, যাতে তাদের পরিচয় প্রকাশিত হয়।”
উল্লেখ্য, গত শনিবার জামুইয়ের এক স্থানীয় স্কুলের দুই পড়ুয়া সন্ধ্যায় কোচিং শেষে মাদওয়া পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিল। ফেরার পথে তাঁদের পথ আগলে দাঁড়ায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। বাধ্য হয়ে স্কুটার থামায় ওই যুগল। শুরু হয় নির্যাতন। প্রথমে গালাগালি। এরপর শারীরিক হেনস্তা। পুরোটাই ক্যামেরায় বন্দি করে রাখে ওই দলেরই একজন। সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই হইচই পড়ে যায় (যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কিশোরীকে ঘিরে ধরে অশালীন আচরণ করছে অভিযুক্তরা। তার নাম, ঠিকানাও জিজ্ঞাসা করে তারা। শুধু তাই নয়, অশালীনভাবে স্পর্শও করা হয় কিশোরীকে। এরই মাঝে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন কিশোরীকে তুলে নিয়ে রাস্তার অন্য প্রান্তে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেন। রেহাই পায়নি কিশোরীর বন্ধুও। বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। গোটা ঘটনাটিকে ঘিরে নিন্দার ঝড় উঠেছে। প্রশ্নের মুখে পড়ে বিহারের নারী নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা।
