
মেহবুবনগর, ২২ সেপ্টেম্বর : কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে জুরলা প্রকল্পে যাওয়ার পথে বিজেপি নেতাদের আটক করল তেলঙ্গানা পুলিশ। মেহবুবনগর জেলার জাদচেরলায় পুলিশি বাধার মুখে পড়েন বিজেপি নেতারা। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিজেপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও মুখোমুখি সংঘাতের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজেপি রাজ্য সভাপতি এন রামচন্দ্র রাও সহ একাধিক শীর্ষ দলীয় নেতৃত্বকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেয় পুলিশ।
বিজেপির অভিযোগ, জুরলা প্রকল্পের আওতাধীন কৃষিজমিতে চাষবাসের জন্য কৃষকরা চরম জলকষ্টে ভুগছেন। জলাধারে পর্যাপ্ত জল মজুত থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার তা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কৃষকদের এই বঞ্চনার প্রতিবাদে এবং তাঁদের দাবির সমর্থনে প্রকল্পের বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে প্রতিনিধিদল নিয়ে যাচ্ছিলেন বিজেপি নেতারা।
আটক হওয়ার পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি এন রামচন্দ্র রাও বলেন, "জুরলা প্রকল্পের অধীনে চাষ করা কৃষকরা তীব্র জলের সংকটে পড়েছেন। জলাধারে যথেষ্ট জল থাকা সত্ত্বেও তা কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে না। আমরা কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের প্রাপ্য জলের দাবিতেই সেখানে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পুলিশ পথ আটকে আমাদের অন্যায়ভাবে আটক করছে। একটি রাজনৈতিক দলকে কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের আটক করা হলেও এই আন্দোলন থামবে না, কর্মসূচি চলবেই।"
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিজেপি নেতা গুভভালা বলরাজ কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করে বলেন, "এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অগণতান্ত্রিক। কৃষকদের সুরক্ষা ও সুযোগ-সুবিধা দেখার দায়িত্ব সরকারের, অথচ রেবন্ত রেড্ডির প্রশাসন কৃষিক্ষেত্রকে পুরোপুরি উপেক্ষা করছে। মেহবুবনগরে পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করানো হচ্ছে। তেলঙ্গানার কৃষকরাই এই অবিচারের জবাব দেবেন এবং কংগ্রেস সরকারকে যোগ্য শিক্ষা দেবেন।" এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাদচেরলা সহ গোটা মেহবুবনগর জেলাজুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। বিজেপির দাবি, কৃষকদের স্বার্থে জল না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এই প্রতিবাদ আরও বৃহত্তর রূপ নেবে।
