
নাগোয়া (জাপান), ১৮ সেপ্টেম্বর : নাগোয়া বন্দরের ইসে উপসাগরের উপকূলে কৃত্রিমভাবে তৈরি দ্বীপ কিঞ্জো-ফুতো। সবুজের সমারোহ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই দ্বীপের পাশেই রয়েছে নাগোয়া ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশনের তিনটি হল। এই এক্সিবিশন হলের পাশের দ্বীপের তীরে ক্রুজশিপ তথা প্রমোদতরী রয়েছে। যে প্রমোদতরী এশিয়ান গেমসের ভিলেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জাপানের আইচির রাজধানী নাগোয়া শহরটি তার সমৃদ্ধ ইতিহাস, আধুনিক শিল্পের জন্য বিখ্যাত। তবে উৎপাদন শিল্পের যান্ত্রিকতা ছাপিয়ে নাগোয়া এখন মেতে উঠেছে বিশ্বমানের ক্রীড়া উদযাপনে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে নগরের পালমা মিজুহো অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে জমকালো উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পর্দা উঠবে এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়া উৎসব এশিয়ান গেমসের ২০তম আসরের। ৪৫ দেশের ১১ হাজারের বেশি অ্যাথলিট লড়বেন ৪৩টি ইভেন্টে।
পুরো নাগোয়া শহরে জুড়ে এখন এশিয়ান গেমসের উন্মাদনা। বিমানবন্দর, স্টেশন থেকে শুরু করে শপিংমল গুলোতে গেমসের লোগো এবং মাসকট শোভা পাচ্ছে। ‘এক এশিয়ার কল্পনা’ শ্লোগানে এশিয়াডের জন্য বেশ কয়েকটি আধুনিক স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছে। অত্যাধুনিক স্কোয়াশ ভেন্যু ‘নাগোয়া কিঞ্জো-ফুতো অ্যারেনা’, বাস্কেটবল ও জুডোর জন্য নতুন ‘আইচি ইন্টারন্যাশনাল অ্যারেনা’ এবং ফুটবল ফাইনালের জন্য বিখ্যাত ‘টয়োটা স্টেডিয়াম’ গেমসের মূল আকর্ষণ।১৯৫৮ সালে টোকিও এবং ১৯৯৪ সালে হিরোশিমার পর তৃতীয়বারের মতো জাপানে হচ্ছে এশিয়ান গেমস। ৩২ বছর পর এই গেমসের আয়োজক দেশটি আইচির সংস্কৃতি ও সভ্যতা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাইছে।
সবচেয়ে বড় কথা, এশিয়ান গেমস দেখার পাশাপাশি ভ্রমণটাও ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকরা ভালো করতে পারবেন। কারণ, নাগোয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই নাগোয়া শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা মোটর করপোরেশনের সদর দফতর। অটোমোবাইল ও প্রযুক্তির ইতিহাস তুলে ধরে নির্মাণ করা হয়েছে টয়োটা টেকনোলজি জাদুঘর, যা জানতে দর্শনার্থীর ভিড় লেগে থাকে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে জাপানের আইচি নাগোয়া এখন ক্রীড়াঙ্গনের মিলনমেলায় মুখর।
