
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গণেশ চতুর্থী মানেই শুধু পুজো, আচার আর উৎসবের আবহ নয়। এই উৎসবকে ঘিরে সাজগোজের ক্ষেত্রেও থাকে বিশেষ আগ্রহ। বিশেষ করে বলিউড তারকাদের উৎসবের পোশাক বরাবরই ফ্যাশনপ্রেমীদের নজর কাড়ে। সাধারণত সাবেকি ভারতীয় পোশাকের সঙ্গে আধুনিক স্টাইলের মেলবন্ধন দেখা যায় তাঁদের সাজে। ফলে উৎসবের সময়ে কীভাবে ঐতিহ্য বজায় রেখেও নিজস্ব স্টাইল তুলে ধরা যায়, তার অন্যতম অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন তারকারাই। গণেশ চতুর্থীর আবহে আলিয়া ভট্ট, দীপিকা পাড়ুকোন এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো তারকাদের বিভিন্ন ভারতীয় সাজ সেই কারণেই বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। তাঁদের পোশাকে কখনও দেখা যায় শাড়ির আভিজাত্য, কখনও আবার লেহেঙ্গা বা ট্র্যাডিশনাল সিলুয়েটের সঙ্গে আধুনিক ছোঁয়া। উৎসবের দিনে খুব বেশি চাকচিক্য না করেও কীভাবে মার্জিত এবং নজরকাড়া সাজ তৈরি করা যায়, সেই ধারণাই তাঁদের লুকগুলিতে স্পষ্ট।
আলিয়া ভট্টের ফ্যাশন স্টাইল বরাবরই সহজ, পরিমিত এবং স্বাভাবিক সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত। ভারতীয় পোশাকেও সেই একই বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। হালকা রঙের শাড়ি, সূক্ষ্ম কারুকাজ কিংবা সাদামাটা ব্লাউজের সঙ্গে ন্যূনতম গয়না তাঁর সাজকে অন্য মাত্রা দেয়। উৎসবের দিনে যারা ভারী পোশাক এড়িয়ে স্বচ্ছন্দ অথচ এলিগ্যান্ট থাকতে চান, তাঁদের জন্য আলিয়ার সাজ হতে পারে উপযুক্ত অনুপ্রেরণা। খুব বেশি গয়না বা মেকআপের প্রয়োজন ছাড়াই কীভাবে একটি ভারতীয় লুককে আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, তাঁর স্টাইল সেই বার্তাই দেয়। অন্যদিকে দীপিকা পাড়ুকোনের ভারতীয় সাজে প্রায়শই দেখা যায় রাজকীয়তার ছাপ। শাড়ি হোক কিংবা অন্য কোনও ঐতিহ্যবাহী পোশাক, তাঁর স্টাইলিংয়ে থাকে গ্ল্যামার এবং পরিমিত আভিজাত্যের মিশেল। গাঢ় রঙ, জমকালো কাপড়, ঐতিহ্যবাহী গয়না এবং নিখুঁত মেকআপ তাঁর উৎসবের লুককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। গণেশ চতুর্থীর মতো অনুষ্ঠানে যারা একটু বেশি সাজতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য দীপিকার স্টাইল যথেষ্ট অনুপ্রেরণাদায়ক।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ফ্যাশন স্টাইল আবার ভারতীয় ঐতিহ্য এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের এক অনন্য সংমিশ্রণ। শাড়ি বা ভারতীয় পোশাক পরলেও তিনি সেটিকে নিজের মতো করে তুলে ধরতে জানেন। পোশাকের সঙ্গে আধুনিক ব্লাউজ, স্টেটমেন্ট জুয়েলারি কিংবা আলাদা ধরনের স্টাইলিং তাঁর লুককে সহজেই আলাদা করে দেয়। ফলে প্রিয়াঙ্কার সাজ থেকে উৎসবের পোশাকে ব্যক্তিগত স্টাইল যোগ করার ধারণা নিতে পারেন ফ্যাশনপ্রেমীরা। বলিউডের আরও একাধিক তারকার উৎসবের সাজেও ভারতীয় পোশাকের নানা বৈচিত্র্য দেখা যায়। কোথাও প্যাস্টেল রঙের শাড়ি, কোথাও উজ্জ্বল রঙের লেহেঙ্গা আবার কোথাও এমব্রয়ডারি করা ঐতিহ্যবাহী পোশাক হয়ে ওঠে সাজের মূল আকর্ষণ। পোশাকের পাশাপাশি কানের দুল, চুড়ি, হার এবং অন্যান্য গয়নার ব্যবহারও লুককে সম্পূর্ণ করে। তবে সাম্প্রতিক ফ্যাশনে ভারী গয়নার পাশাপাশি মিনিমাল জুয়েলারির প্রবণতাও যথেষ্ট জনপ্রিয়।

গণেশ চতুর্থীর মতো উৎসবের ক্ষেত্রে পোশাক বেছে নেওয়ার সময় আরামের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে পুজোর অনুষ্ঠান, অতিথি আপ্যায়ন কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর ক্ষেত্রে খুব ভারী পোশাক অনেক সময় অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই তারকাদের সাজ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্ব এবং স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে মানানসই পোশাক বেছে নেওয়াই হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসবের সাজ মানেই যে অত্যন্ত ভারী বা দামি পোশাক পরতে হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। বরং পোশাকের রঙ, কাট, গয়না এবং মেকআপের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকলেই তৈরি হতে পারে আকর্ষণীয় লুক। আলিয়ার মতো সিম্পল ও এলিগ্যান্ট সাজ, দীপিকার মতো রাজকীয় স্টাইল কিংবা প্রিয়াঙ্কার মতো ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার মিশেল, পছন্দ অনুযায়ী যে কোনও ধরনের লুক বেছে নেওয়া যায়।
গণেশ চতুর্থীকে ঘিরে তারকাদের এই সাজ তাই শুধু বিনোদন জগতের খবর নয়, ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকাদের পোশাকের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর সেগুলি দ্রুতই সাধারণ মানুষের ফ্যাশন অনুপ্রেরণার অংশ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শাড়ি, লেহেঙ্গা এবং অন্যান্য ভারতীয় পোশাকের নতুন স্টাইলিং নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। সব মিলিয়ে গণেশ চতুর্থীর উৎসবের আবহে বলিউড তারকাদের ভারতীয় সাজ আবারও প্রমাণ করল, ঐতিহ্যবাহী পোশাকের আবেদন কখনও পুরনো হয় না। সঠিক রঙ, পরিমিত গয়না এবং ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ একটি ভারতীয় পোশাকও হয়ে উঠতে পারে নজরকাড়া। আলিয়া ভট্টের সরলতা, দীপিকা পাড়ুকোনের আভিজাত্য কিংবা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার আধুনিক ছোঁয়া, উৎসবের সাজে প্রত্যেকের কাছ থেকেই নেওয়া যেতে পারে আলাদা আলাদা ফ্যাশন অনুপ্রেরণা।
