
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে...’—পুজোর আগমনী সুর যেন ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে বাঙালির ঘরে ঘরে। দুয়ারে কড়া নাড়ছে দুর্গোৎসব। আর পুজোর ছুটিতে চেনা গণ্ডি ছেড়ে অচেনা পথে পা বাড়ানোর বাঙালির চিরন্তন অভ্যাসও ফিরছে স্বমহিমায়। কেউ পাহাড়ে, কেউ সমুদ্রে, আবার কেউ পাড়ি জমাবেন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে।
তবে এবারের পুজোয় যাঁদের গন্তব্য নেপাল, তাঁদের মনে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা উদ্বেগ। সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে হড়পা বানের দাপটে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বেশ কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। তবুও আশার আলো দেখছে পর্যটন মহল। বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে নেপাল। ক্ষতচিহ্ন এখনও স্পষ্ট, কিন্তু পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হিমালয়ের কোলে থাকা এই রূপসী দেশ। আশঙ্কার মেঘ সরিয়ে ফের পর্যটনের আকাশে ডানা মেলতে শুরু করেছে নেপাল।
ভ্রমণ বাতিলের কোনও প্রশ্ন নেই—
সম্প্রতি বানভাসি নেপালের ছবি দেখে অনেকের মনেই ভ্রমণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে। তবে আশ্বাসের বাণী শুনিয়েছেন স্বয়ং নেপালের পর্যটন মন্ত্রী খড়ক রাজ পৌডেল। পর্যটকদের কাছে তাঁর আকুল আবেদন, সফর বাতিল করবেন না। বিপর্যয় পুরো দেশের ছবি নয়। নেপালের বহু পর্যটন কেন্দ্র ও ট্রেকিং রুট এখনও একদম নিরাপদ ও সচল। হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালের পাশে দাঁড়াতে বিশ্বের পর্যটকদের প্রতি নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের আবেদন, ‘নেপাল ইজ নট ক্লোজড…নেপাল ইজ কলিং’। পূজোর ছুটিতে যদি নেপাল ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে, তবে কোন পথ খোলা আর কোথায় লাল বাতি— তা জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
পোখরা ঘুরে আসুন— হিমালয়ের কোলে শান্ত হ্রদের শহর পোখরা এখন পর্যটকদের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। প্যারাগ্লাইডিং থেকে শুরু করে বাঞ্জি জাম্পিং— সব ধরনের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস স্বাভাবিকভাবেই চলছে। দর্শনার্থীরা নিরাপদে বেড়াতে পারেন এখানে। একই সঙ্গে দর্শন করা যেতে পারে মুক্তিনাথ ও ঐতিহাসিক তীর্থক্ষেত্র জনকপুরী। মুস্তাং অঞ্চলের মুক্তিনাথ ও জনকপুরীতে পর্যটক এবং পুণ্যার্থীদের যাতায়াত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
কাঠমান্ডুই বা কী দোষ করল?
রাজধানী কাঠমান্ডুও খোলা রয়েছে। তবে সড়কপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক থাকা জরুরি। স্থানীয় ট্যুর অপারেটরদের মতে, মূল রাস্তায় ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় আপাতত হেটৌডা হাইওয়ে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সড়কপথের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল, তাই যাত্রার আগে সর্বশেষ ট্রাফিক আপডেট জেনে নেওয়া আবশ্যক।
নেপালের কোন অঞ্চল এড়িয়ে চলবেন?
তবে পুজোর ট্রিপে কিছু অঞ্চল এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। হিমবাহ গলিত হ্রদ বিস্ফোরণের (GLOF) কারণে লাংটাং অঞ্চল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে লাংটাং ভ্যালি, গোসাইকুণ্ড, তামাং হেরিটেজ ট্রেইল, হেলাম্বু সার্কিট এবং রুবি ভ্যালির মতো জনপ্রিয় ট্রেকিং রুটগুলি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্যাব রুবেসি ও পাসাং লামু হাইওয়ে। রসুয়াগড়ী হয়ে কৈলাশ মানসরোবর যাত্রার পথও আপাতত বন্ধ। পাশাপাশি নুওয়াকোট, ধাদিং, গোর্খা এবং চিতওয়ানের মতো নিচু এলাকাগুলিতেও ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন। বিপর্যয়ের মেঘ কেটে উদয় হচ্ছে নতুন ভোরের। সঠিক পরিকল্পনা আর সতর্কতা মেনে চললেই এবারের দুর্গাপূজোয় নেপাল ভ্রমণ হয়ে উঠতে পারে আনন্দময় ও নিরাপদ।
