
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবস মানেই জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আবেগ, দেশাত্মবোধের আবহ এবং সঙ্গে একটি অতিরিক্ত ছুটির দিন। অনেকেই এই দিনটিকে বাড়িতে কাটানোর বদলে পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে ছোট্ট একটি ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। হাতে যদি মাত্র একদিন সময় থাকে, তাহলেও চিন্তার কোনও কারণ নেই। কলকাতার খুব কাছেই এমন কয়েকটি মনোরম জায়গা রয়েছে, যেখানে সকালে বেরিয়ে সারাদিন ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যেই বাড়ি ফেরা সম্ভব।
অল্প সময়ের এই সফরে প্রকৃতির সান্নিধ্য, নদীর পাড়ের শান্ত পরিবেশ কিংবা ঐতিহাসিক স্থানের সৌন্দর্য—সবকিছুরই স্বাদ মিলবে। তাই দূরে না গিয়ে স্বল্প খরচে এবং কম সময়েই উপভোগ করা যেতে পারে একটি সুন্দর দিন। বিশেষ করে যাঁরা কর্মব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ ভ্রমণের সুযোগ পান না, তাঁদের জন্য এই ধরনের ওয়ান-ডে ট্রিপ হতে পারে আদর্শ বিকল্প। রইল এমন ৩ আদর্শ ঠিকানা।
* প্রকৃতির নির্জনতায় পিয়ালি আইল্যান্ড— সুন্দরবনের প্রবেশপথ বলা হয় পিয়ালি দ্বীপকে। শহর ছাড়িয়ে গ্রামের পথ ধরলেই চোখে পড়বে মাতলা ও পিয়ালি নদীর অপূর্ব মিলন। বর্ষার দিনে এই দ্বীপের সবুজ রূপ চোখ জুড়িয়ে দেয়। নদীর বুকে নৌকোবিহার এবং চরে নানা পাখির ঘোরাঘুরি দেখতে পাবেন এখানে। গ্রাম্য মানুষের সরলতা আর নদীর হাওয়া নিমেষেই ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে।
যাতায়াত: শিয়ালদহ থেকে জয়নগরের লোকাল ধরে দক্ষিণ বারাসত স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে অটোয় কেল্লা পৌঁছে হেঁটে পিয়ালি দ্বীপ।
খাবার: একেবারেই গ্রাম্য পরিবেশ। তাই বাড়ি থেকে সঙ্গে খাবার নিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
* জলধারার রূপ দেখতে রণডিহা— একঘেয়ে চেনা ছকের বাইরে ঘুরে আসতে পারেন বর্ধমানের রণডিহায়। দামোদরের বুকে তৈরি এই ব্যারেজ বর্ষায় অন্য রূপ নেয়। লকগেট দিয়ে জল ছাড়ার দৃশ্য দেখতে এখন অনেকেই ভিড় জমান। বাদল মেঘে এখানকার পরিবেশ হয়ে ওঠে রূপকথার মতো। শান্ত বাঁধানো চত্বরে বসে সূর্যাস্ত দেখার আনন্দই আলাদা।
যাতায়াত: হাওড়া থেকে পানাগড়গামী যে কোনও ট্রেনে যাওয়া যায়। পানাগড় থেকে অটো বা বাসে সোজা রণডিহা।
খাবার: পর্যটকের সংখ্যা কম বলে এখানেও সঙ্গে শুকনো খাবার ও জল রাখা জরুরি।
* ইতিহাসের খোঁজে আলিপুর জেল মিউজিয়ামে— শহরের বাইরে না গিয়ে কাটাতে চাইলে আলিপুর জেল মিউজিয়াম সেরা পছন্দ। ২০২২ সালে এই ঐতিহাসিক সেন্ট্রাল জেলটি সংগ্রহশালায় রূপান্তরিত হয়। স্বাধীনতা দিবসে দেশের সংগ্রামের ইতিহাস নতুন করে জানার এটি চমৎকার সুযোগ। সুভাষচন্দ্র বসু, চিত্তরঞ্জন দাসের মতো মনীষীদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণ। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। বেলা ১১টায় এটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলে।
যাতায়াত: হাওড়া থেকে ক্যাব ধরে হাজরা মোড়ের কাছে আলিপুর জেলে সহজে পৌঁছানো যায়। নিকটতম মেট্রো স্টেশন হল নেতাজি ভবন বা যতীন দাস পার্ক।
খাবার: মিউজিয়াম চত্বরেই ক্যাফে রয়েছে। পাশাপাশি কাছেই রয়েছে কলকাতার বহু জানা-অজানা রেস্তোরাঁ।
