
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে এবার সরাসরি কালীঘাটে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছল পুলিশ। ধৃত সাংসদের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে সঙ্গে নিয়েই মঙ্গলবার সেখানে তল্লাশি অভিযান চালান তদন্তকারীরা। তদন্তের প্রয়োজনে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতেই এই অভিযান বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা নাগাদ সুমিতকে সঙ্গে নিয়ে কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারী দলের সদস্যরা। বাড়িটি ঘিরে ফেলার পর সুমিতকে সামনে রেখেই বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল কথিত আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা। পুলিশি জেরায় অভিষেকের আপ্তসহায়ক দাবি করেছিলেন, ওই বাড়িতেই যাবতীয় টাকা লেনদেন করা হতো। তাঁর সেই দাবির ভিত্তিতেই মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে সুমিতকে একাধিক প্রশ্ন করা হয় বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। অভিযানের মাধ্যমে তাঁর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেন তদন্তকারীরা।
জমি দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগে সিআইডি দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল সুমিত রায়কে। প্রায় ৯ থেকে ১০ বার সিআইডি তল্লাশির মুখে পড়তে হয় তাঁকে। এরপর চলতি মাসের ১০ তারিখ অর্থাৎ সপ্তাহখানেক আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডি ও এসটিএফের যৌথ হানায় গ্রেপ্তার হন সুমিত। শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করার পর নিজেদের হেফাজতে নেয় তদন্তকারী সংস্থা। অভিষেকের বিরুদ্ধে বহু বেআইনি কাজের অভিযোগ এবং সেসব কাজের প্রতিটির সঙ্গে সুমিত ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে কাঠগড়ায় তোলা হয় আপ্তসহায়ককে। এরপর তাঁকে দফায় দফায় জেরায় একাধিক বিস্ফোরক তথ্য হাতে আসে তদন্তকারীদের।
পুলিশের দাবি, সুমিত জেরায় জানিয়েছেন যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি খুঁটিনাটি তাঁর জানা। কীভাবে সব চলত, সেসব তিনি স্বীকার করবেন। সুমিতের আরও দাবি, কালীঘাটের ওই বাড়িতেই যাবতীয় আর্থিক লেনদেন হতো। এরপরই আজ, মঙ্গলবার তাঁকে সঙ্গে নিয়ে কালীঘাটের ওই বাড়িতে যান তদন্তকারীরা, বিশাল কেলেঙ্কারির পুনর্নির্মাণের উদ্দেশে। বাড়ির প্রতিটি কোণায় কোণায় সুমিতকে নিয়ে গিয়ে জেরা করা হয় বলে খবর। তদন্তকারীদের আশা, এতে বেশ কিছু নতুন সূত্র মিলবে এবং তা এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার জাল দ্রুত গোটাতে সাহায্য করবে।
