
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রায় ১৫ বছরের শিল্পখরা কাটিয়ে বাংলায় ফের বিনিয়োগের জোয়ার আনার লক্ষ্যে এগোচ্ছে বিজেপি সরকার। গত কয়েক মাসে রাজ্যে একাধিক সংস্থার প্রকল্পের শিলান্যাস করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর আগেও আরও কয়েকটি শিল্পপ্রকল্পের শিলান্যাস হওয়ার কথা রয়েছে। তার মধ্যেই এল বড় ঘোষণা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, এবার বাংলায় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে পুতিনের দেশ রাশিয়া। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের পাশাপাশি তৈরি হতে পারে ডেটা সেন্টারও। বাংলায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে আগামী দিনে ফের মুম্বই সফর করবেন বলেও জানিয়েছেন শমীক।
গণেশপুজোয় মাতোয়ারা বাংলা। এদিনই বাংলায় বিনিয়োগ নিয়ে বড়সড় বার্তা দেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ভারী শিল্প, স্টার্টআপ ছাড়া মুক্তি নেই বাংলার। গণপতির কাছে সেই প্রার্থনাই করা হচ্ছে।” কিন্তু বড়সড় বিনিয়োগ কী বাংলায় আসছে? সেই উত্তরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, ”দেশ-বিদেশে সমস্ত পর্যায়েই কথা চলছে। আমি আবার মুম্বই যাব।” এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাংলায় রাশিয়ার বিনিয়োগ নিয়ে আশার কথা শোনান শমীক। তিনি বলেন, ”রাশিয়ার সঙ্গে খুব শীঘ্রই একটা কলাবরেশন দেখা যাবে। তারা এখানে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, ডেটা সেন্টার করবে। সর্বক্ষেত্রে বিনিয়োগ আসছে।”
তবে একটু যে সময় লাগবে তা মেনে নিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার এই সাংসদ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ”রাতারাতি তো সবকিছু বদলে দেওয়া যাবে না। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীও এমন দাবি করেননি। পার্থক্য যেটা দেখা যাচ্ছে, সেটা হল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সিন্ডিকেট উঠে গেছে। একটু সময় দিন, মানুষই বলবে হ্যাঁ, নতুন সরকার এসেছে।” বলে রাখা প্রয়োজন, রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম ১০০ দিনে ‘ম্যাজিক’ দেখানোর বার্তা দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। সেই সময়েই রাজ্যে বড়সড় বিনিয়োগ আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে গত কয়েকমাসে পুরুলিয়া থেকে ডানকুনি, রাজ্যের একাধিক জায়গায় বিনিয়োগ করেছে একাধিক সংস্থা। কার্যত জোয়ার এসেছে বঙ্গের শিল্পে।
জানা গিয়েছে, পুজোর আগে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নতুন একটি প্ল্যান্টের উদ্বোধন হতে পারে। ইতিমধ্যে সংস্থার অন্যতম কর্তা শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী ১৪ অক্টোবর নয়া এই প্রকল্পের সূচনা হতে পারে মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে। তার মধ্যেই এদিনের শমীকের ঘোষণা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
