
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মুম্বইয়ের একটি রেস্তরাঁ থেকে বেরিয়ে পকেটে হাত দিয়েই কার্যত বিপাকে পড়লেন রীতেশ দেশমুখ! একশো টাকাও ছিল না অভিনেতার কাছে। শুনতে অবাক লাগলেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখিই হতে হয়েছিল তাঁকে। আর এই ঘটনার কথা নিজেই স্বীকার করেছেন রীতেশ। শেষ পর্যন্ত এক সেলেব পাপারাজ্জিই এগিয়ে এসে তাঁকে একশো টাকা দিয়ে সাহায্য করেন। সেই সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে ওই পাপারাজ্জির সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন অভিনেতা।
তবে এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এক অন্য কাহিনি। আসলে ডিজিটালাইজেশনের যুগে আজকাল বেশিরভাগ মানুষই নগদ টাকার পরিবর্তে অনলাইন পেমেন্টেই স্বচ্ছন্দ্য। রীতেশের ক্ষেত্রেও ব্যাপরাটা অনেকটা সেরকম।এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে রীতেশ জানান, রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে একটি পথশিশু কিছু জিনিসপত্র বিক্রি করছিল। তাকে সাহায্যের জন্যই একটা জিনিস কেনার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু, সেসময় পকেটে কোনও নগদ অর্থ ছিল না। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেখানে দেবদূতের মতো হাজির এক পাপারাজ্জি। তিনি রীতেশের মনের কথা বুঝে একশো টাকা দিয়ে সাহায্য করেন। এগিয়ে এসে বলেন, ‘ম্যায় দেতা হুঁ’। যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, আমি দিচ্ছি। রীতেশ অবশ্য শিশুটিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তার কাছে অনলাইন পেমেন্টের কোনও সুবিধা আছে কিনা।

স্মৃতিচারণ করে রীতেশ বলেন, “আমরা রেস্তরাঁ থেকে বেরিয়ে আসছিলাম। তখন একটি শিশু একশো টাকার কিছু একটা জিনিস বিক্রি করছিল। আজকাল আমরা এতটাই ক্যাশলেস হয়ে গিয়েছি যে আমার কাছেও টাকা ছিল না। এখন তো সবকিছুই ডিজিটাল, তাই আমি সঙ্গে টাকা রাখি না। একজন পাপারাজ্জি উদার মানসিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসেছিলেন। তখন তাঁর নামও আমি জানতাম না। এখন জানি, সম্ভবত তাঁর নাম সুশীল মোহিতে। যদি আমি ভুল বলে থাকি তার জন্য খুবই দুঃখিত। তিনিই এগিয়ে এসে বলেছিলেন, ম্যায় দেতা হুঁ।”
এরপর রীতেশ তাঁর সঙ্গে একটি ছবি তোলেন এবং সেখান থেকে চলে যান। পরে তিনি স্ত্রী জেনেলিয়া ডি’সুজাকে পুরো ঘটনাটি জানান এবং মনে হয়, পাপারাজ্জির কাছ থেকে নেওয়া টাকাটা ফেরত দেওয়া উচিত। কিন্তু ওই পাপারাজ্জির সঙ্গে যোগাযোগের কোনও উপায়ই তাঁর জানা ছিল না। তাই রীতেশ ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পুরো ঘটনাটি শেয়ার করেন যাতে ওই পাপারাজ্জিকে খুঁজে পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁকে খুঁজে পান। যোগাযোগ করে ধার নেওয়া টাকা ফিরিয়ে দেন। রীতেশ বলেন, “ওই পাপারাজ্জি যেভাবে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন আমার হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল । আমরা অনেক সময় ভাবি, তাঁরা হয়তো শুধু আমাদের ছবি তুলতে চান। কিন্তু আমরা বুঝতে পারি না যে এমন অনেক মুহূর্তও আসে যখন তাঁরাই এগিয়ে এসে আমাদের সাহায্য করেন।”
