
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: এ বার বদলাতে পারে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানের দীর্ঘদিনের মঞ্চ। প্রতি বছর রাজধানী দিল্লিতে যে অনুষ্ঠান হয়ে এসেছে, এ বার প্রথমবারের মতো তা দিল্লির বাইরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জল্পনা তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের দাবি সত্যি হলে, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানের দায়িত্ব পেতে চলেছে গুজরাট। ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’র জন্য পরিচিত একতানগরেই এ বার বসতে পারে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রদানের আসর।
জানা যাচ্ছে, একতানগর থেকেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সূত্রের খবর, রাষ্ট্রপতি নিজে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে একতানগরে যেতে পারেন। যদিও কেন আচমকা পুরস্কার প্রদানের স্থান বদলের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা নিয়ে এখনও সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের অনুমান, ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’র সঙ্গে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অনুষ্ঠানকে যুক্ত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুলাই ঘোষণা করা হয়েছিল ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম। এ বারের তালিকায় একাধিক উল্লেখযোগ্য নাম রয়েছে। ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন কার্তিক আরিয়ান। একই বিভাগে ‘ব্রহ্মযুগম’-এর জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন দক্ষিণী তারকা মাম্মুট্টি। সেরা হিন্দি ছবির সম্মান পেয়েছে ‘শ্রীকান্ত’। এ ছাড়াও বিনোদনমূলক সেরা ফিচার ফিল্ম হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’। সেরা ফিচার ফিল্মের পুরস্কার পেয়েছে ‘আর্টিকল ৩৭০’। প্রখ্যাত পরিচালক জয়রাজের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের জুরি বোর্ড এ বছরের পুরস্কারপ্রাপকদের নির্বাচন করেছে। সব মিলিয়ে ওই দিন মোট ৪৩টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
এ বারের পুরস্কারের তালিকায় দেশ-বিদেশে প্রশংসিত একাধিক ছবিও জায়গা করে নিয়েছে। ‘অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট’, ‘লাপাতা লেডিস’-এর পাশাপাশি ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’, ‘স্ত্রী ২’, ‘হনুমান’, ‘মাঞ্জুম্মেল বয়েজ’ এবং ‘প্রেমালু’র মতো জনপ্রিয় ছবিও রয়েছে পুরস্কারের তালিকায়। বাংলার জন্যও এ বার এসেছে একাধিক সুখবর। সৌরভ পালোধী পরিচালিত ‘অঙ্ক কী কঠিন’ ছবির জন্য সেরা শিশুশিল্পীর পুরস্কার পাচ্ছে ঋদ্ধিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, তপোময় দেব এবং গীতশ্রী চক্রবর্তী। অন্যদিকে অঞ্জন দত্ত পরিচালিত ‘চালচ্চিত্র এখন’ পেয়েছে সেরা সিনেমার সম্মান। ফলে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চে এ বারও বাংলার সাফল্য বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে। আর সেই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান যদি সত্যিই দিল্লি থেকে সরে গুজরাটের একতানগরে যায়, তবে তা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করবে।
