
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের আগাম জামিনের মামলার শুনানিতে উঠে এল ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ প্রসঙ্গ। রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়, সুমিতের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও চলছে। তদন্তে একটি রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি, ওই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর প্রায় ৩০ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে সুপ্রিম কোর্টে দাবি করে রাজ্য। এই বক্তব্যের পরই ওই রাজনৈতিক দলটি তৃণমূল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থা। শুনানির সময় সংস্থাটির নাম উঠে আসার পর তদন্তের অগ্রগতি ও তার গতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট।
জমি দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। গত কয়েকদফায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছেন রাজ্যের গোয়েন্দারা। আজ, সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে সুমিতের রক্ষাকবচ আগামী সোমবার পর্যন্ত বহাল রেখেছে আদালত। একইসঙ্গে তাঁকে যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত লিখিত নথিও জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিন ফের সুমিতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতে জানান সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। রাজ্যের হয়ে তিনি এদিন আদালতে সওয়াল করেন তিনি। তুষার মেহতার দাবি, ”তদন্তে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে। একটি রাজনৈতিকদলের অ্যাকাউন্টে সেই টাকা জমা হয়েছিল। সেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের প্রায় ৩০ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। আর সেটাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” এমনকী এসএসসি দুর্নীতি মামলায় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে চার্জশিট জমা পড়েছে বলেও আদালতকে জানান তুষার মেহতা।
যদিও এই বিষয়ে পালটা প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। পর্যবেক্ষণে বিচারপতি বলেন, ”কলকাতা হাই কোর্টের একাধিক বিচারপতি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের বিরুদ্ধে তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ইডির তদন্তের ইচ্ছা ছিল কি না, সে নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।” এমনকী তদন্ত ধীরগতিতে চলছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিচারপতি। যদিও এক্ষেত্রে সলিসিটর জেনারেলের পালটা দাবি, এখনও পর্যন্ত তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা হিমশৈলের চূড়া। সুমিতকে হেফাজতে নিলে আরও তথ্য সামনে আসবে। যদিও পালটা সুমিত রায়ের আইনজীবীর দাবি, ”আমার মক্কেলের সই করা একটিও নথি তদন্তে দেখানো হয়নি। ১১ দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদেও লেনদেন সংক্রান্ত সঠিক প্রশ্ন করা হয়নি।” যদিও এই সংক্রান্ত পালটা ভিডিও আদালতকে তারা জমা দিতে পারবেন বলেও জানান সলিসিটর জেনারেল।
