
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দুর্গাপুজো মানেই একের পর এক নতুন সাজে প্যান্ডেল হপিং। অষ্টমীর জন্য শাড়ি আগে থেকেই ঠিক করে রাখা হলেও পঞ্চমী কিংবা ষষ্ঠীতে অনেকেরই পছন্দ ওয়েস্টার্ন পোশাক। কিন্তু স্লিভলেস টপ বা শর্ট ড্রেস পরার কথা ভাবলেই অনেকের অস্বস্তি বাড়ে। কারণ কনুই কিংবা হাঁটুর কালচে দাগ তখন বেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুজোর সাজে যা নিয়ে তৈরি হয় বাড়তি চিন্তা।
কনুই ও হাঁটুর কালচে ছোপ নিয়ে অনেকেরই ধারণা, ঠিকমতো সাবান দিয়ে পরিষ্কার না করার কারণেই এমনটা হয়। তাই দাগ দূর করতে অনেকে জোরে জোরে ত্বক ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অতিরিক্ত স্ক্রাবিংয়ে সমস্যা কমার বদলে আরও বাড়তে পারে। বারবার ঘষাঘষির ফলে ত্বকের উপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চুলকানি, জ্বালাভাব কিংবা শুষ্কতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাহলে উপায় কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, কনুই ও হাঁটুর কালচে ভাবের পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে হওয়া ট্যানও অন্যতম। তাই ত্বকের যত্নে সঠিক পদ্ধতি মেনে চলা জরুরি। এর জন্য সবসময় দামি প্রসাধনী কিনতে হবে এমন নয়। বাড়িতে থাকা কয়েকটি সহজলভ্য উপকরণ দিয়েও ত্বকের যত্ন নেওয়া যেতে পারে। তবে কোনও উপকরণ ব্যবহারের আগে ত্বকে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতা রয়েছে কি না, তা খেয়াল রাখা জরুরি।
• বেসন ও দইয়ের মাস্ক— ভারতীয় রূপচর্চায় বেসনের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে, দইয়ে ল্যাকটিক অ্যাসিড রয়েছে, যা ত্বককে নরম ও মসৃণ করে তোলে। দুই টেবিলচামচ বেসনের সঙ্গে প্রয়োজনমতো দই মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। কনুই ও হাঁটুর উপর সমানভাবে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর হালকা গরম জল দিয়ে আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক শুকিয়ে নিয়ে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার লাগান।
• মধু ও ওটসের মাস্ক— এক টেবিলচামচ মিহি গুঁড়ো করা ওটসের সঙ্গে এক টেবিলচামচ মধু ও সামান্য জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। কালচে ছোপের উপর লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর হাত ভিজিয়ে কয়েক সেকেন্ড খুব আলতোভাবে ম্যাসাজ করে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সবশেষে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না।
• অ্যালোভেরা ও হলুদের মাস্ক— অ্যালোভেরা জেল ত্বককে ভিতর থেকে ময়েশ্চারাইজড রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, কাঁচা হলুদ ভারতীয় রূপচর্চায় বহুল-ব্যবহৃত এক উপাদান। এক টেবিলচামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে নিন। কনুই ও হাঁটুর উপর পাতলা করে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকে সাময়িকভাবে হলুদাভ দাগ হতে পারে, তাই অল্প পরিমাণে ব্যবহার করলেই যথেষ্ট।
তবে কয়েকটা বিষয় মনে রাখুন অবশ্যই। প্রাকৃতিক উপাদান মানেই যে তা সবার ত্বকের পক্ষে উপযোগী হবে, এমন বলা যায় না। পুজোর আর খুব বেশি দিন বাকি নেই। তাই তার আগে ত্বক উজ্জ্বল করে তুলতে চাইলে অবশ্যই সাবধানী হতে হবে। ত্বকে সয়ে গেলে, সত্যিই ট্যানিং দূর হবে হাঁটু ও কনুইয়ের। সেজে উঠতে পারবেন মনমতো ওয়েস্টার্ন পোশাকে।
