
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর আর বেশি দেরি নেই। সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় চোখ রাখলেই স্পষ্ট, উৎসবের আবহ ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে। পুজোর আনন্দে মেতে ওঠার পাশাপাশি নজরকাড়া সাজেও নিজেকে আলাদা করে তুলতে চান অনেকেই। তবে ছেলেদের ফ্যাশনে পোশাকের বিকল্প কম—এমন ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। বরং সঠিক পোশাক, রং ও স্টাইলের মেলবন্ধনে পুজোর ক’দিনেই তৈরি করা যায় দারুণ ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। আর সেই সাজের অনুপ্রেরণা নিতে পারেন বলিউড তারকাদের ফ্যাশন থেকে।
* পঞ্চমীর সকালে হালকা সাজ—
বেছে নিতে পারেন হ্যান্ডলুমে বোনা স্ট্রাইপড অথবা একরঙা কুর্তা, সঙ্গে খাঁটি সুতির ঢিলে ট্রাউজার্স। হাতা গুটিয়ে রাখুন কনুইয়ের কাছ পর্যন্ত। লুক কমপ্লিট করতে মানানসই সুতির স্টোলও চাপিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
* পঞ্চমীর সন্ধ্যায় রাজকীয় ছোঁয়া—
সূর্য ডোবা মানেই সাজেও গ্ল্যামারের পারদ চড়বে। সিল্কের উপর এম্ব্রয়ডারির কাজ করা শর্ট কুর্তা বেছে নিতে পারেন। সঙ্গে স্লিম-ফিট ট্রাউজার্স।
* ষষ্ঠীর সকালে জমকালো সাজ—
ষষ্ঠী মানে পুজোর ঘোরাঘুরির পাকাপাকি সূচনা। জমকালো সাজ দিয়ে শুরু না হলে কি তা জমে? এদিন শার্ট বা কুর্তায় থাকুক সূক্ষ্ম মিরর ওয়ার্ক। রঙ হলুদ, বেইজ, ক্রিমের মতো স্নিগ্ধ অথচ উজ্জ্বল কিছু।
* ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় ‘পাওয়ার ড্রেসিং’—
ফ্যাশন নিয়ে খানিক পরীক্ষানিরীক্ষা করতে চাইলে একরঙা জ্যাকেট-স্টাইল কুর্তার সঙ্গে রয়েছে ড্রেপড ধুতি-স্টাইল ট্রাউজার্স বেছে নেওয়া যেতে পারে। লুক সম্পূর্ণ করতে স্টেটমেন্ট বুট ও বুকের বাম পাশে ব্রোচই যথেষ্ট।
* সপ্তমীর সকালে ‘ওল্ড-স্কুল গ্ল্যাম’—
সাজ কখনও পুরনো হয় না, বরং নস্ট্যালজিক হতে পারে। এদিনের হালকা রঙের শর্ট কুর্তার ওপরে তাই চাপিয়ে নেওয়া যেতে পারে গাঢ় রঙের বন্ধগলা জ্যাকেট। সঙ্গে স্রেফ অ্যানালগ ঘড়ি পরে নিলেই সাজ সম্পূর্ণ।
* সপ্তমীর সন্ধ্যা জুড়ে কেবল স্নিগ্ধতা—
সাজের পারদ চড়ছে এক ধাপ এক ধাপ করে। তাই এইবেলায় পরা যায় প্যাস্টেল শেডের সিল্ক কুর্তা, যার গা জুড়ে সূক্ষ্ম ডোরি রেশমের কাজ। এই সাজের সঙ্গে যেন অ্যাককেসারিজ একেবারেই বাড়াবাড়ি না হয়ে যায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
* অষ্টমীর সকালে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া—
অষ্টমীর সাজই তো আসল পরীক্ষা! বাঙালি এদিন লম্বা ঝুলের কুর্তা তো পরবেই, সঙ্গে ট্রাউজার্স বদলে ধুতি। যে কোনও রঙই চলতে পারে, তবে লাল, সাদা, ক্রিম, সোনালি যেন এই সকালটুকুর জন্যই তৈরি! ডিজাইনে ছোট ফুলের বুটি, নেকলাইনে সূক্ষ্ম কারুকাজ থাকলে সাজ আরও মনোরম হয়।
অষ্টমীর সন্ধ্যায় সাজে থাকবে আভিজাত্য—
এই সন্ধ্যায় চলতে পারে যে কোনও সাজের বাড়বাড়ন্ত। পোশাকে অভিজাত ফেব্রিকের উপর জারদৌজি, মুক্তো, সিল্ক থ্রেড ও সোনালি ডাবকার কাজ থাকতে পারে। প্যান্ডেলের আলোর নিচে নজর কাড়ার জন্য এমন সাজ যথেষ্ট।
* নবমীর সকালে ফুলেল রেশমের সৌন্দর্য—
গতরাতের গ্ল্যাম লুকের পর আজ পোশাকে কিছুটা কোমলতা থাকুক। মোলায়েম ফেব্রিকের উপর সুতোয় ফুলের নকশা থাকতে পারে। হাতা ও গলার কাজ সাজের আভিজাত্য বাড়িয়ে তুলবে।
* নবমীর সন্ধ্যায় সাজ পরিমিত—
কালো, নেভি ব্লু, সিলভারের মতো রঙ— অর্থাৎ যাবতীয় উজ্জ্বলতা এই সন্ধের জন্য তুলে রাখা যায়। মিরর থেকে সিকুইন, ব্রোকেড থেকে সিল্ক, এদিনের সন্ধ্যার স্টার আপনিই। দশমীর সকালে থাকুক সাদামাটা সাজ।
বিদায়ের মুহূর্ত যত এগিয়ে আসে, সাজেও আসে সংযম। এদিন সকালে তাই সাদা অথবা ঘিয়ে রঙের ঢিলে পাঞ্জাবিতেই সবথেকে মানানসই লাগে। বিষাদের বেদনা কাটিয়ে, মনকে ‘আসছে বছর আবার হবে’ বলে ইতি টানুন পুজোর সাজে।
