West Bengal

1 hour ago

Kalighat TMC: ‘রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই!’ রাষ্ট্রপতি-রাজ্যপালের দ্বারস্থ কালীঘাট তৃণমূল

President Droupadi Murmu, Trinamool leader Mamata Banerjee, and Governor RN Ravi
President Droupadi Murmu, Trinamool leader Mamata Banerjee, and Governor RN Ravi

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে—গত কয়েক মাস ধরে বারবার এমনই অভিযোগ করে আসছে বর্তমানে বিরোধী শিবিরে থাকা কালীঘাট তৃণমূল। এ বার সেই অভিযোগ নিয়েই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং রাজ্যপাল আরএন রবির দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার দলের তরফে রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে। দেশের সাংবিধানিক প্রধান রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপালের কাছে গিয়ে বিষয়টি তুলে ধরতে চাইছে কালীঘাট তৃণমূল। 

কালীঘাট তৃণমূল সূত্রে খবর, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে তাঁরা রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান। রাজ্যের একাধিক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সরব হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। গত ৩০ মে সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়ি যাওয়ার পথে আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিষেক। ওই দিন তাঁকে চড়-ঘুষি মারার পাশাপাশি ডিমও ছোড়া হয়। তার পর তৃণমূলের একাধিক বর্তমান এবং প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ডিমের নিশানায় কখনও থেকেছেন মহুয়া মৈত্র, কখনও সৌগত রায়। এই প্রতিটি ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কালীঘাট তৃণমূল।

এর পাশাপাশি শুভেন্দু সরকারের বিরুদ্ধে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েও সরব হতে চাইছে কালীঘাট তৃণমূল। তৃণমূলনেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ২১ জুলাই এবং ২৮ অগস্টের সভায় পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছিলেন। ২৮ অগস্টের সভা থেকে তিনি বলেছিলেন, ‘পুলিশ আমাদের সভা, মিছিল করার অনুমতি দিচ্ছে না। আমি স্পষ্ট বলছি, এর পর আমি জেলায় যাব। পুলিশ অনুমতি না-দিলে জনতার অনুমতি নিয়ে প্রোগ্রাম করব। দরকার হলে হাঁটব। তার পর দেখি তোমরা কী করো!’’ এই আবহে বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে ‘বিজেপির গুন্ডারা’ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে কালীঘাট তৃণমূল। এই সূত্রেও রাজ্যে আইনের শাসন রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ভোর সাড়ে ৪টেয় অস্ত্র হাতে একদল লোক যদি একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ঢুকে কর্মীদের উপর হামলা চালাতে পারে, ফোন কেড়ে নিতে পারে, অফিস ভাঙচুর করতে পারে, আর সেই সময় পুলিশ যদি নির্বিকার থাকে, তা হলে পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন বলে আর কী অবশিষ্ট আছে?”

কালীঘাট তৃণমূল সূত্রে খবর, এই সমস্ত বিষয়ই রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতে সবিস্তার জানাতে চাইছে তারা। এর পাশাপাশি রাজ্যে নারী নির্যাতন, বিরোধী কণ্ঠরোধে সরকারের দমনমূলক পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে এই বিষয়গুলি নিয়েও দুই সাংবিধানিক প্রধানকে অবহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে কালীঘাট তৃণমূলের।

You might also like!