
কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বর : পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবার আবহাওয়া পরিস্থিতিতে বড়সড় পরিবর্তনের কথা জানাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়া আধিকারিকদের মতে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর অবস্থান করা গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশের দিকে সরে গিয়েছে। এই পরিবর্তনের কারণে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় ভারী বৃষ্টি থেকে সাময়িক স্বস্তি মেলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মৌসুমী অক্ষরেখা সক্রিয় থাকায় উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও তরাই অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক কেন্দ্র জানিয়েছে, গাঙ্গেয় অঞ্চল থেকে ঘূর্ণাবর্ত সরে যাওয়ার ফলে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা ও প্রবণতা অনেকটাই কমবে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় দিনভর আকাশ প্রধানত মেঘলা থাকবে এবং কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, আকাশে মেঘের যাতায়াতের মাঝেই তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বাড়তে পারে।
কলকাতা, হাওড়া ও হুগলিতে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকার অনুমান করা হয়েছে। এর সঙ্গেই দুপুর বা বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের আশঙ্কায় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির জন্য ‘হলুদ সতর্কতা’ (ইয়েলো অ্যালার্ট) জারি রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির জন্য আবহাওয়ার পরিস্থিতি চিন্তাজনক বলে জানিয়ে ‘কমলা সতর্কতা’ (অরেঞ্জ অ্যালার্ট) জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। তাদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসের প্রভাবে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার একাধিক স্থানে অতি সচলভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। অন্যদিকে দার্জিলিং ও কালিম্পং-এর মতো পাহাড়ি এলাকায় তাপমাত্রা ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। টানা বৃষ্টির কারণে দার্জিলিং ও কালিম্পং-এর পাহাড়ি রাস্তায় ধস নামার এবং নিম্নাঞ্চলের নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবণের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
পরিস্থিতি বিচারে আবহাওয়া দফতর রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। খারাপ আবহাওয়া ও বজ্রপাতের সময়ে সাধারণ নাগরিক ও পর্যটকদের খোলা জায়গা, গাছের নিচে এবং জলমগ্ন এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে রাস্তার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তবেই যাত্রা করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
